ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত ও বহিষ্কার দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় মাগুরায় একই রাতে দুই সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাগুরা শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও আলোচনা সভা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা  দক্ষিণ সুন্দরপুর পাঁচপুকুরিয়া ইসলামিয়া গাউছিয়া নূরানী হ হেফজখান ও এতিমখানা মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাগুরায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আন্তঃ  কলেজ ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন  পঞ্চগড়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস—অভিযুক্ত প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারের পরিচালক  হাটহাজারী ফরহাদাবাদ ফটিকছড়ি সীমান্তে বিয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে ছুরিকাঘাতে নিহত ১, আহত ২ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতার কামনায় খুলনা নগরীতে দোয়া মাহফিল।

ভারতীয় ভিসা জটিলতা : হৃদরোগীদের জন্য আশীর্বাদ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতীয় ভিসা জটিলতা : হৃদরোগীদের জন্য আশীর্বাদ!

মোঃ আইনুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

দিনাজপুরে স্বল্প খরচে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা-

সম্প্রতি ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশে চিকিৎসা নিতে না পারা অনেক হৃদরোগী এখন ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন দেশেই। উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন তারা।

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (দিমেক) কার্ডিওলজি বিভাগে প্রতিমাসে গড়ে ৮০ জন রোগীর অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, ২০ জনের স্টেন্টিং এবং ১০ জনের পেসমেকার স্থাপন করা হচ্ছে। হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার কবীরের নেতৃত্বে চলছে হৃদরোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম। তিনি বলেন, “অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্টিং ও পেসমেকার স্থাপন—সবই দেশেই সম্ভব। শুধুমাত্র বাইপাস সার্জারির জন্য রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়।”

দিনাজপুর সদর উপজেলার নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। ভারতে চিকিৎসার পরিকল্পনা করলেও ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পেসমেকার স্থাপন করান তিনি। নাজমুলের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারতে চিকিৎসা করাতে ৫–৬ লাখ টাকা খরচ হতো, অথচ দিনাজপুরেই মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রোগী আজগর আলী বলেন, “হার্টে রিং পড়াতে চেয়েছিলাম ভারতে গিয়ে। ভিসা না পাওয়ায় দিনাজপুরে এসেছি। এখানে রিং-এর দাম বাদ দিয়ে মাত্র ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ভালো আছি। ভিসা জটিলতা না হলে কখনো বুঝতাম না, বাংলাদেশেই এত ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।”

এছাড়া দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন ও কেয়ার স্পেশালাইজড জেনারেল হাসপাতালও হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়মিত বাইপাস সার্জারি, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি করা হচ্ছে। হাসপাতালটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আজাদ জানান, ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মতে, ভিসা না পাওয়ায় প্রথমে হতাশা তৈরি হলেও এখন এটিই হয়ে উঠেছে আশীর্বাদ। স্বল্প খরচে ও ঝামেলাহীন চিকিৎসা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করছেন।

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সম্প্রসারণের জন্য সরঞ্জাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রোগীরা ভারতে না গিয়ে দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন—এটি ইতিবাচক পরিবর্তন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় ভিসা জটিলতা : হৃদরোগীদের জন্য আশীর্বাদ!

আপডেট সময় : ০৭:৩২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতীয় ভিসা জটিলতা : হৃদরোগীদের জন্য আশীর্বাদ!

মোঃ আইনুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি

দিনাজপুরে স্বল্প খরচে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা-

সম্প্রতি ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশে চিকিৎসা নিতে না পারা অনেক হৃদরোগী এখন ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন দেশেই। উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন তারা।

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (দিমেক) কার্ডিওলজি বিভাগে প্রতিমাসে গড়ে ৮০ জন রোগীর অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, ২০ জনের স্টেন্টিং এবং ১০ জনের পেসমেকার স্থাপন করা হচ্ছে। হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার কবীরের নেতৃত্বে চলছে হৃদরোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম। তিনি বলেন, “অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্টিং ও পেসমেকার স্থাপন—সবই দেশেই সম্ভব। শুধুমাত্র বাইপাস সার্জারির জন্য রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়।”

দিনাজপুর সদর উপজেলার নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। ভারতে চিকিৎসার পরিকল্পনা করলেও ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দিমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পেসমেকার স্থাপন করান তিনি। নাজমুলের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারতে চিকিৎসা করাতে ৫–৬ লাখ টাকা খরচ হতো, অথচ দিনাজপুরেই মাত্র ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রোগী আজগর আলী বলেন, “হার্টে রিং পড়াতে চেয়েছিলাম ভারতে গিয়ে। ভিসা না পাওয়ায় দিনাজপুরে এসেছি। এখানে রিং-এর দাম বাদ দিয়ে মাত্র ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ভালো আছি। ভিসা জটিলতা না হলে কখনো বুঝতাম না, বাংলাদেশেই এত ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।”

এছাড়া দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন ও কেয়ার স্পেশালাইজড জেনারেল হাসপাতালও হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়মিত বাইপাস সার্জারি, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি করা হচ্ছে। হাসপাতালটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আজাদ জানান, ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মতে, ভিসা না পাওয়ায় প্রথমে হতাশা তৈরি হলেও এখন এটিই হয়ে উঠেছে আশীর্বাদ। স্বল্প খরচে ও ঝামেলাহীন চিকিৎসা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করছেন।

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সম্প্রসারণের জন্য সরঞ্জাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রোগীরা ভারতে না গিয়ে দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন—এটি ইতিবাচক পরিবর্তন।”