বরিশালে ২৬ হাজার টাকার চাকরি থেকে অর্ধশত কোটি টাকার মালিকানা: বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার বিলাসী জীবনের গল্প
- আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ১০৯ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে ২৬ হাজার টাকার চাকরি থেকে অর্ধশত কোটি টাকার মালিকানা: বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার বিলাসী জীবনের গল্প
তরিকুল ইসলাম
ক্রাইম রিপোর্টার, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি
বরিশাল প্রতিনিধি
মাত্র ২৬ হাজার টাকার চাকরি থেকে শুরু করে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ কুমার সাহা। সরকারি এই দপ্তরের মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি নিয়েই খুলে যায় তার ভাগ্যের দরজা। শুরুটা হয়েছিল নোয়াখালী অফিসে, আর সেখান থেকেই শুরু তার বিত্ত-বৈভবের যাত্রা।
ফরিদপুর সদর উপজেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম সৌরভের। তার বাবা ছিলেন পত্রিকার হকার। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। কিন্তু রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরেই বদলে যায় সৌরভের ভাগ্য। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুপারিশে ২০১৪ সালে বিআরটিএতে চাকরি পান তিনি।
মাত্র এক দশকের ব্যবধানে সৌরভ গড়ে তুলেছেন অগাধ সম্পদ। আত্মীয়স্বজনদের নামে লুকিয়ে রেখেছেন বাস, প্রাইভেট কার, জমিজমাসহ বিপুল সম্পত্তি। ফরিদপুরে তার ভগ্নিপতির তত্ত্বাবধানে চলছে একাধিক সিএনজি ও অটোরিকশা। নিজে চড়ে বেড়ান আধা কোটি টাকার বিলাসবহুল পাজেরো গাড়িতে।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে দ্রুত পদোন্নতি পান সৌরভ। মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে একে একে পরিদর্শকের আসনে পৌঁছান তিনি। কর্মজীবনে ঢাকার উত্তরা, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের শুরুতে বদলি হয়ে আসেন বরিশাল অফিসে।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ঘুষের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন সৌরভ। প্রতিটি লাইসেন্সে দালালদের মাধ্যমে আদায় হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা, যার বড় অংশ যায় সৌরভের হাতে। প্রতি মাসে এভাবে তার আয় দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায়। অথচ সরকারি বেতন মাত্র ২৬ হাজার টাকা।
তথ্য অনুসারে, বরিশাল অফিসে প্রতি মাসে ৬ থেকে ৮টি ড্রাইভিং টেস্ট বোর্ড বসে, যেখানে অংশ নেন শতাধিক প্রার্থী। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে পরে দালালদের মাধ্যমে টাকা নিয়ে পাস করানো হয়। সৌরভের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন— রিয়াজ খান, আলাউদ্দীন, জাকির, আসাদুল ও হৃদয়সহ প্রায় ২০ জন এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
আর এই অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব ব্যবহার করে সৌরভ শুধু নিজেকে নয়, পরিবারের সদস্যদেরও রাজনীতিতে জায়গা করে দিয়েছেন। তার মা কৃষ্ণা রানী সাহা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
একজন হকারের ছেলে থেকে কোটি টাকার মালিক— সৌরভ সাহার এই উত্থান আজ আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।























