ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত ও বহিষ্কার দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় মাগুরায় একই রাতে দুই সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাগুরা শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও আলোচনা সভা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা  দক্ষিণ সুন্দরপুর পাঁচপুকুরিয়া ইসলামিয়া গাউছিয়া নূরানী হ হেফজখান ও এতিমখানা মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাগুরায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আন্তঃ  কলেজ ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন  পঞ্চগড়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস—অভিযুক্ত প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারের পরিচালক  হাটহাজারী ফরহাদাবাদ ফটিকছড়ি সীমান্তে বিয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে ছুরিকাঘাতে নিহত ১, আহত ২ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতার কামনায় খুলনা নগরীতে দোয়া মাহফিল।

সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ: ট্যুরিস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১১১ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ: ট্যুরিস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আজিজুল গাজী স্টাফ রিপোর্টর
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

বঙ্গোপসাগর তটবর্তী সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহাসিক রাস উৎসব ঘিরে এ বছর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে বনবিভাগ। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী ছাড়া অন্য কোনো পর্যটককে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, হরিণ শিকার রোধ ও প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ প্রতিরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫টি নৌপথ। উৎসবকে ঘিরে বনবিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই রাস উৎসব চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পূর্ণিমার ভোরে সাগরের প্রথম জোয়ারের লোনা জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই ধর্মীয় উৎসব।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে হিন্দু সন্ন্যাসী হরভজন দাস সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজার সূচনা করেন। সেই ধর্মীয় আচার থেকেই ধীরে ধীরে “দুবলার চরের রাস মেলা” নামে পরিচিতি পায় এই উৎসব।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে লাখো মানুষের সমাগম হতে থাকে। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীই নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও যোগ দিতেন। ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, বনাঞ্চলের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতাও বাড়তে থাকে।
এই কারণে ২০১৭ সাল থেকে মেলার ব্যাপকতা সীমিত করা হয় এবং রাস উৎসবকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রাখা হয়।
রাস উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোরকোলে রাধা-কৃষ্ণের অস্থায়ী মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পুণ্যার্থীরা সেখানে পূজা-অর্চনা করবেন।
তিনি আরও জানান, উৎসব চলাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,
“এ বছর রাস উৎসবে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা যেতে পারবেন। ট্যুরিস্ট বা ট্যুর অপারেটরদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূর্বে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকার ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই এবার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ: ট্যুরিস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ঘিরে কঠোর বিধিনিষেধ: ট্যুরিস্ট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আজিজুল গাজী স্টাফ রিপোর্টর
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি।

বঙ্গোপসাগর তটবর্তী সুন্দরবনের দুবলার চরের ঐতিহাসিক রাস উৎসব ঘিরে এ বছর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে বনবিভাগ। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থী ছাড়া অন্য কোনো পর্যটককে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, হরিণ শিকার রোধ ও প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ প্রতিরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫টি নৌপথ। উৎসবকে ঘিরে বনবিভাগ, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই রাস উৎসব চলবে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পূর্ণিমার ভোরে সাগরের প্রথম জোয়ারের লোনা জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই ধর্মীয় উৎসব।
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে হিন্দু সন্ন্যাসী হরভজন দাস সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজার সূচনা করেন। সেই ধর্মীয় আচার থেকেই ধীরে ধীরে “দুবলার চরের রাস মেলা” নামে পরিচিতি পায় এই উৎসব।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানে লাখো মানুষের সমাগম হতে থাকে। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীই নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও যোগ দিতেন। ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, বনাঞ্চলের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতাও বাড়তে থাকে।
এই কারণে ২০১৭ সাল থেকে মেলার ব্যাপকতা সীমিত করা হয় এবং রাস উৎসবকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রাখা হয়।
রাস উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোরকোলে রাধা-কৃষ্ণের অস্থায়ী মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পুণ্যার্থীরা সেখানে পূজা-অর্চনা করবেন।
তিনি আরও জানান, উৎসব চলাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,
“এ বছর রাস উৎসবে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা যেতে পারবেন। ট্যুরিস্ট বা ট্যুর অপারেটরদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূর্বে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হরিণ শিকার ও প্লাস্টিক বর্জ্যে বন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই এবার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।”