ফরিদপুরের কানাইপুর শিল্পনগরীতে প্লাস্টিক কারখানায় ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু: জানাজা ছাড়া দাফনের চেষ্টা,
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের কানাইপুর শিল্প নগরী (বিসিক) এলাকায় একটি প্লাস্টিক কারখানার ভেতরে জাহিদুল ইসলাম (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকাল ৮টার দিকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, কারণ ঘটনাটিকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন ওঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।
কারখানার ভেতরেই মৃত্যু, রহস্য ঘনীভূত হয়ে বলে জানা যায়
স্থানীয়দের জনগণের ভাষ্যমতে, সকালে কারখানার কর্মীরা জাহিদুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কারখানা কর্তৃপক্ষ বা পরিবার কেউই স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ফলে অনেকেই সন্দেহ করছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, জাহিদুল প্রতিদিনের মতো ভ্যান নিয়ে কারখানায় আসলেও কীভাবে তিনি কারখানার ভেতরে মৃত হলেন—এ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান।
রাতে জানাজা ছাড়াই দাফনের চেষ্টা করলে কবরস্থানে কমিটিরা বাধা প্রদান করেন।
ঘটনার আরও রহস্যজনক দিক হলো—
রাত প্রায় ১০টার দিকে পরিবারটির পক্ষ থেকে কোনো জানাজা না করে তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, জাহিদুলের লাশকে নিয়মিত ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী গোসল, কাফন বা জানাজা ছাড়াই প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়া অবস্থায় দাফনের জন্য গঙ্গানন্দপুর কবরস্থানে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্থানীয়রা আরও বেশি প্রশ্নে মুখে পড়েন।
কবরস্থান কমিটির বাধা
দাফনের প্রস্তুতি নিতে দেখে গঙ্গানন্দপুর কবরস্থান কমিটি বাধা দেয়। তারা বলেন—
কোনো মুসলমানকে ইসলামী নিয়মাবলি ছাড়া এমনভাবে মাটিতে দেওয়া যায় না।
তাছাড়া মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সন্দেহ থাকায় তারা পরিবারকে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার অনুরোধ জানান।
কবরস্থান কমিটির সদস্যদের দাবি—
“রাতের অন্ধকারে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো লাশ দাফন করতে এসে তারা সন্দেহজনক আচরণ দেখাচ্ছিল। আমরা তাই দাফন করতে দিইনি।”
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশ্ন
এলাকাবাসী এ ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন। তারা বলছেন—
মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি
কারখানা কর্তৃপক্ষ নীরব
পরিবার তড়িঘড়ি দাফন করতে চাইছে
জানাজা বা গোসল কোনোটাই হয়নি
লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়া ছিল
সব মিলিয়ে বিষয়টি রহস্যে ঘেরা।
তদন্তের দাবি
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন,
“এই মৃত্যু যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে কেন লুকোচুরি? কেন জানাজা ছাড়াই দাফনের তাড়া?”
অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন—“এতে হয়তো কোনো দুর্ঘটনা, চাপা ঘটনা বা অন্য কোনো অপরাধ জড়িত থাকতে পারে।”
পরিবারের অবস্থান
জাহিদুলের পরিবার প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তাদের নীরবতাও রহস্য বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রয়োজন
স্থানীয়রা প্রশাসনকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, মরদেহের সঠিক পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

























