ধর্মেন্দ্রর যে রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

ধর্মেন্দ্রর যে রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি
৫ দশকেরও অধিক সময়জুড়ে বলিউড দাপিয়ে বেড়ানো ধর্মেন্দ্র প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য পান ১৯৬১ সালের ‘শোলা অউর শবনম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তারপর আর তাকে আর পেছনের ফিরে তাকাতে হয়নি। রোমান্টিক ঘরানার চিত্রনায়ক থেকে শুরু করে অ্যাকশনধর্মী সবখানেই ছিল তার বিচরণ। খুব দ্রুতই তিনি পান ‘হিন্দি চলচ্চিত্রের হি-ম্যান’ উপাধি, যা বহু দশক ধরে তাঁর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ভক্তদের কাছে তিনি আজও ‘শোলে’-র ভিরু সরল, হাস্যরসিক ও বীরত্বে ভরা এক চরিত্র। বলিউডের ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র এমন এক চিত্রনায়ক ছিলেন যিনি সমসাময়িকদের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন অভিনেতা ছিলেন পাশাপাশি বক্স অফিসেও ঠিলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকাদের একজন।
কিন্তু শুধু তাঁর স্টাইল, শক্তি বা ব্যক্তিত্বই তাঁকে অনন্য করেনি; বরং বলিউডের বক্স অফিসেও রাজত্ব করার তাঁর যে অসাধারণ পরিসংখ্যান, সেটিই তাঁকে আলাদা করে পরিচিতি দিয়েছে। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি হিট দেওয়ার রেকর্ড ধর্মেন্দ্রর দখলেই, এবং এটি আজও কেউ ভাঙতে পারেননি। ২৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি; এর মধ্যে ৯৪টি সফল হয়েছে, যার মধ্যেই ৭৪টি ‘সার্টিফায়েড হিট’। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৭টি ব্লকবাস্টার এবং ১৩টি সুপারহিট। ‘শোলে’ তো ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক ব্যবসাসফল ছবির মর্যাদায় আজও অমলিন। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে অমিতাভ বচ্চনের ৫৬টি হিট, সালমান খানের ৩৮, শাহরুখ খানের ৩৪ ও আমির খানের ২০টি। মাস–অ্যাপিল এবং ধারাবাহিকতার জন্য পরিচিত জিতেন্দ্র (৫৬), মিঠুন চক্রবর্তী (৫০), রাজেশ খান্না (৩৮), অক্ষয় কুমার (৩৯)- কেউই পৌঁছাতে পারেননি ধর্মেন্দ্রর অবিশ্বাস্য মোট হিটসংখ্যার কাছে।
ধর্মেন্দ্রর যে সকল চলচ্চিত্রের জন্য অমলিন হয়ে থাকবেন:
শোলে (১৯৭৫):
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র ‘শোলে’-তে ভিরু চরিত্রে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় আজও কিংবদন্তি। জয়-ভিরুর বন্ধুত্ব, গব্বর সিংয়ের ভয়ানক সংলাপ এবং বসন্তীর সঙ্গে তাঁর খুনসুটি— সব মিলিয়ে এটি এক আবেগঘন, রোমাঞ্চকর ও কালজয়ী গল্প। ভিরু চরিত্রে ধর্মেন্দ্রর হাস্যরস, সাহসিকতা ও প্রেমিকসুলভ আবেগ— এই তিন গুণের নিখুঁত মিশ্রণ তাঁকে ভক্তদের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে। আজও ‘শোলে’ টেলিভিশনে প্রচারিত হলে দর্শকরা পর্দা ছাড়তে পারেন না।
সত্যকাম (১৯৬৯):
এই ছবিটিই ধর্মেন্দ্রর জীবন ও ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি এখানে আদর্শবাদী এক যুবকের চরিত্রে, যিনি সমাজ ও নিজের বিবেকের মধ্যে চলা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ধর্মেন্দ্রর সংযত সংলাপ, চোখের ভাষা এবং আবেগঘন অভিনয় তাঁকে শুধু বাণিজ্যিক নায়ক নয়, এক গভীর চিন্তাশীল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এই ছবিতে শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর রসায়নও ছিল অনবদ্য।
ফাগুন (১৯৭৩):
এই রোমান্টিক ছবিতে ধর্মেন্দ্র ও ওয়াহিদা রহমানের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ছবির গল্প এক সরল গ্রামীণ প্রেমকাহিনি, কিন্তু ধর্মেন্দ্র তাঁর অভিনয়, মিষ্টি সংলাপ এবং চোখের গভীর ভালোবাসায় গল্পটিকে অন্য মাত্রা দেন। ছবির গানগুলো যেমন শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়েছিল, তেমনি ধর্মেন্দ্রর রোমান্টিক উপস্থিতি সেই সময়ের প্রেমের সংজ্ঞা নতুনভাবে লিখেছিল।
দ্য বার্নিং ট্রেন (১৯৮০):
একই সঙ্গে অ্যাকশন, থ্রিলার ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রণ এই ছবিতে ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতি ছিল অবিস্মরণীয়। এক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা রোধে তাঁর চরিত্রের সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও মানবিকতা দর্শকদের শিহরিত করে। ছবিটির বিশাল সেট, উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য ও ধর্মেন্দ্রর দৃঢ় উপস্থিতি একে ক্লাসিক করে তোলে।
চুপকে চুপকে (১৯৭৫):
হৃষিকেশ মুখার্জির এই ক্লাসিক কমেডি ছবিতে ধর্মেন্দ্র প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু অ্যাকশন বা রোমান্সেই নয়, হালকা-ছোঁয়ার কমেডিতেও অসাধারণ। ছবিতে তিনি একজন অধ্যাপক, যিনি নিজের পরিচয় গোপন করে এক বুদ্ধিদীপ্ত মজার খেলায় মাতেন। ধর্মেন্দ্র ও জয়া ভাদুরীর রসায়ন, অমিতাভ বচ্চনের উপস্থিতি এবং হালকা ছলে বলা সংলাপগুলো আজও দর্শকদের মুখে মুখে। তাঁর অভিনয়ে ছিল এমন এক স্বাভাবিক হাস্যরস, যা বলিউডের কমেডি ঘরানাকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

























