ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রানাপাশা ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির পদ স্থগিত ও বহিষ্কার দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় মাগুরায় একই রাতে দুই সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাগুরা শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও আলোচনা সভা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা  দক্ষিণ সুন্দরপুর পাঁচপুকুরিয়া ইসলামিয়া গাউছিয়া নূরানী হ হেফজখান ও এতিমখানা মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত। মাগুরায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আন্তঃ  কলেজ ফুটবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন  পঞ্চগড়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস—অভিযুক্ত প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারের পরিচালক  হাটহাজারী ফরহাদাবাদ ফটিকছড়ি সীমান্তে বিয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে ছুরিকাঘাতে নিহত ১, আহত ২ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতার কামনায় খুলনা নগরীতে দোয়া মাহফিল।

রাজাপুরে আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি::
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন এর বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে তা বোর্ডে পাঠানো হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, ভূয়া অভিভাবক দেখিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং একক প্রার্থী দেখিয়ে একাধিক অভিভাবক, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ভোটার তালিকা দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, প্রতিমাসে ৬,২০,২৯২ টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

মাদ্রাসার কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, তাঁদের বেতন থেকে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়। এমনকি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়—এমন অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন গ্রহণ করেন।

মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় পতাকাটি ছেঁড়া অবস্থায় টানানো রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের ক্ষোভ—“যেখানে জাতীয় পতাকাই সম্মান পায় না, সেখানে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন কোথায়?”

 

অভিযোগের তদন্তে গত ২ ডিসেম্বর মাদ্রাসায় যান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব মজুমদার। তবে দুই পক্ষের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করতে না পেরে আংশিক প্রতিবেদন নিয়ে ফিরে আসেন। তিনি জানান, পর্যবেক্ষণ শেষ করে খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।

 

এদিকে স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বেতন কর্তন, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম হারাচ্ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, “অনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন মাদ্রাসাটি নিজের মতো করে চালাচ্ছেন। অনিয়ম-দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

 

অন্যদিকে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, “আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন। চাকরি গেলে যাক, আমি কিছু বলবো না।”

 

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গভর্নিং বডি পুনর্গঠনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজাপুরে আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন এর বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে তা বোর্ডে পাঠানো হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, ভূয়া অভিভাবক দেখিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং একক প্রার্থী দেখিয়ে একাধিক অভিভাবক, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ভোটার তালিকা দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, প্রতিমাসে ৬,২০,২৯২ টাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

মাদ্রাসার কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, তাঁদের বেতন থেকে ১০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়। এমনকি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়—এমন অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন গ্রহণ করেন।

মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় পতাকাটি ছেঁড়া অবস্থায় টানানো রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের ক্ষোভ—“যেখানে জাতীয় পতাকাই সম্মান পায় না, সেখানে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন কোথায়?”

 

অভিযোগের তদন্তে গত ২ ডিসেম্বর মাদ্রাসায় যান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব মজুমদার। তবে দুই পক্ষের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করতে না পেরে আংশিক প্রতিবেদন নিয়ে ফিরে আসেন। তিনি জানান, পর্যবেক্ষণ শেষ করে খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।

 

এদিকে স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বেতন কর্তন, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম হারাচ্ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ ফরিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, “অনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন মাদ্রাসাটি নিজের মতো করে চালাচ্ছেন। অনিয়ম-দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

 

অন্যদিকে অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, “আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন। চাকরি গেলে যাক, আমি কিছু বলবো না।”

 

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত ও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গভর্নিং বডি পুনর্গঠনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।