
রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে তাঁরা হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ও হল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, আবাসিক শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামকে সাপে কামড় দেওয়ার পর প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভের সময় হলের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত লিফলেট ও পোস্টার দেখা যায়। এতে ‘সিট বাণিজ্য আর কত’, ‘প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই’, ‘জঙ্গলমুক্ত হল চাই’, ‘সিট নিয়ে প্রহসন বন্ধ কর’, ‘খাবারের মান বৃদ্ধি কর’, ‘ওয়াশরুম পরিষ্কার কর’ এবং ‘কতজন মরলে হল প্রশাসনের টনক নড়বে’—এসব লেখা ছিল।
হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেন দিয়ে সাপ হলে প্রবেশ করে। এ ছাড়া হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানানো হলেও নিম্নমানের নেট দেওয়ায় তা বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না করায় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’
হল সংসদের জিএস সোয়াইব হোসেন বলেন, হলে এর আগেও সাপের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হলের চারপাশের জঙ্গল ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সাপের উপদ্রব বাড়ছে।
সোয়াইব হোসেন জানান, রোববার ভোরে আবাসিক শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামকে সাপে কামড় দেওয়ার পর প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের গাফিলতির সুষ্ঠু বিহিত দাবি করেন তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান আশিক বলেন, ‘আমাদের হলের চারপাশে এমন অবস্থা, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বসবাস করা অনুপযোগী। আমরা হল প্রশাসন ও প্রভোস্টদের সবাইকে জানানোর পরও তাঁরা এ বিষয়ে কোনো যৌক্তিক পদক্ষেপ নেননি। বরং তাঁরা এতটাই গড়িমসি করেছেন যে এক মাস পর এসে পুনরায় আমাদের বন্ধুকে সাপে দংশন করেছে। আমরা এখানে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও এজিএস সালমান সাব্বিরসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘রুমের ভেতরে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকতে না পারে, তাহলে আমাদের একটাই প্রশ্ন—হল প্রশাসন সেখানে কী করে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।’
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত আছেন। তবে সতর্কতা হিসেবে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলামকে কালাচ সাপে কামড় দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর নুরনবীকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
Office Address: House-969, Floor-3, Road No-15, Avenue-2, DOHS, Mirpur, Dhaka-1216. Hotline: 01713780618, W/A No:01713780618, Gmail: dtntv79@gmail.com.
Copyright © 2026 Durniti Talash News Tv. All rights reserved.