
গফরগাঁও এর সাবেক এমপি প্রয়াত আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের জোড়ালো তদবিরে ২০০০ সালের ২৬ ডিসেম্বর খাদ্য বিভাগে যোগদান করেন কিছু দিনের এপিএস এর দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গফরগাঁও সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ভিপি হিসাম এবং আরিফ এর কমিটির পদধারী নেতা ছিলেন, এছাড়াও গফরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ এর সাবেক ভিপি সাজু'র সময় কালেও নাট্য ও সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
নিয়োগের প্রায় দুই যুগ পরও কর্মস্থল ঘিরে নানা বিতর্ক প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ১৯৯৭ সালের ২৯ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া গফরগাঁওয়ে বিএনপির জনসমাবেশে আসার পথে গাড়ি বহরে হামলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম একজন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সেচ শাখার সেচপাম্প মেরামতকারী শাহ আবুল কাশেমের বড় ছেলে কামাল বিপুল সম্পদ ও গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ধান সংগ্রহে দুর্নীতির অভিযোগে ময়মনসিংহের ফুলপুর এলএসডি থেকে প্রত্যাহার করে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা দপ্তরে পদায়ন করা হয়। সেখানে কয়েক মাস কর্মরত থাকার পর সেখান থেকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ডেপুটেশনে তিনি যোগ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অবস্থানের সুযোগে শাহ মাজহারুল ইসলাম কামাল রাতারাতি আলাদীনের চেরাগ পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তিনি বদলি-বাণিজ্য, পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জেলায় বসে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং ঠিকাদারি সংক্রান্ত কাজে তদবির করার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। কেউ তার কথা না রাখলে বা না শুনলেই সাংবাদিক লেলিয়ে দেয়া হয়, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করা হয়। এজন্য কেউ ই কামালের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না।
দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে অবস্থান এবং বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাহ মাজহারুল ইসলাম কামাল বিপুল অর্থ সম্পদ ও গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছেন। তার নিজ নামে, বেনামে এবং স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে রয়েছে অর্থ সম্পদ ও বিনিয়োগ। মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজায় ৭সি নম্বর ফ্ল্যাট, আমলাপাড়ার মাদ্রাসার পাশের একটি ফ্ল্যাট ও দুর্গাবাড়ী রোডের একটি দোকান। কাঁচিঝুলিতে দুই ভাইয়ের নামে ছয়তলা ফাউন্ডেশনের চারতলা একটি বাড়ি, নতন বাজার ফারহান কমপ্লেক্সে দুটি ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
এ ছাড়াও গফরগাঁও জামতলা মোড়ে একটি দোকান এবং ইমামবাড়ী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন বাজারে একাধিক দোকান রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ময়মনসিংহের ঢাকা বাইপাস মোড়ে এসএসসি-৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে কেনা জমিতে তার তিনটি শেয়ার রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি। ঢাকা মেট্রো-গ-৪৩-২৬৪৭ নম্বরের গাড়িটি ময়মনসিংহ খাদ্য বিভাগের পরিবহন ঠিকাদার ও সাবেক যুবলীগ নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আজাদের নামে নিবন্ধিত হলেও শাহ কামাল ব্যবহার করেন এবং গাড়িটি মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজার গ্যারেজে রাখা হয়। বিষয়টি বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য এবং গাড়িটির ব্যবহার সংক্রান্ত নথি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া শাহ মাজহারুল ইসলাম কামাল তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম, ছোট ভাই শাহ ইশতিয়াক রুবেল এবং বেকার শালা ফাহিম এর নামে বিভিন্ন জায়গা ও ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল, কোম্পানি বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তর সহ দুদকের খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার কাঁচা বাজারে গেন্দু মিয়ার হোটেলের পাশে ময়মনসিংহ খাদ্য পরিদর্শক সমিতির কার্যালয়ে প্রতিরাতে কোটি কোটি টাকার জুয়া খেলার আসর জমে। একজন বিডার হিসাবে এ আসর থেকে প্রতিদিন একলক্ষ থেকে দেড়লক্ষ টাকা কামাল আয় করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। এগুলোর খোঁজ নিবো।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুল আলম ( আরসি ফুড) জানান, শাহ কামাল তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ছিলেন এবং তার সময়ে কামালের ডেপুটেশন-সংক্রান্ত কোনো আদেশ হয়নি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
শাহ মাজহারুল হক কামাল দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন, মূল কর্মস্থলে না ফেরার কারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বদলি-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, জুয়া খেলার অর্থ আদায়, ও আয়ের সাথে সংহতি বিহীন অর্থ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত ছাড়াও দুদক সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
খাদ্য পরিদর্শক কামাল এর মুঠো ফোনে এসকল বিযয়ে জানতে চাইলে সে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে আসা সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন কিন্তু গফরগাঁও ময়মনসিংহের একাধিক সংবাদ কর্মীর অনুসন্ধানে এবং খাদ্য বিভাগের নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক সহকর্মীদের ভিন্ন তথ্য উপাত্তে উঠে এসেছে সংবাদটি বস্তুনিষ্ঠ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তথ্য সমূহ অর্থ সম্পদ এর পরিমান অল্পই বলা হয়েছে।
Office Address: House-969, Floor-3, Road No-15, Avenue-2, DOHS, Mirpur, Dhaka-1216. Hotline: 01713780618, W/A No:01713780618, Gmail: dtntv79@gmail.com.
Copyright © 2026 Durniti Talash News Tv. All rights reserved.