
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট জমলে সেটি ফ্যাটি লিভার বলা হয়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন ফ্যাটি লিভার শুধু বয়স্কদের ক্ষেত্রে হয়। তবে বয়স্ক থেকে শুরু করে ছোটরা সবাই এই সমস্যায় ভোগে। মূলত অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার ও প্রক্রিয়াযুক্ত খাবার খাওয়া এবং ব্যয়াম না করার কারণে এ সমস্যা দেখা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগটি ধরা পড়তে অনেক সময় লেগে যায়।
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলেও বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি, পেটে মেদ রয়েছে, শারীরিক পরিশ্রম কম অথবা ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের লিভারের স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বাড়িতে যেভাবে ব্যায়াম করবেন
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে জিমে যাওয়ার সময় পান না। তবে জিমে না গিয়ে শুধু বাড়িতে গিয়ে কয়েকটি ব্যয়াম করলেও কমতে পারে আপনার ফ্যাটি লিভার। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০-৩০০ মিনিট মাঝারি ধরণের ব্যায়াম করলে লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্য হারে কমে। চলুন জেনে নিই কীভাবে ব্যায়াম করে লিভারের চর্বি কমানো সম্ভব—
১. প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট ঘরের মধ্যেই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দৌড়ানোর ভঙ্গি করুন।
২. সোজা হয়ে দাড়িয়ে লাফ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত উপরে তুলুন এবং পা প্রসারিত করুন। এটি পুরো শরীরের চর্বি কমায়।
৩. যদি হাঁটুতে কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে দড়ির লাফ সবচেয়ে ভালো উপায়।
৪. উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে শরীরের সামনের অংশ বা বুক ওপরের দিকে তুলুন। এটি লিভারকে উদ্দীপিত করে।
৫. বুকডাউন বা পুশ-আপ দিলে শরীরের উপরিভাগের পেশি মজবুত হয়। মাটিতে করতে কষ্ট হলে দেয়ালের সঙ্গে ভর দিয়ে ওয়াল পুশ-আপ করতে পারেন।
৬. উপুড় হয়ে দুই হাতের কনুই এবং পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে পুরো শরীরকে মাটির সমান্তরালে সোজা রাখুন। পেটের চর্বি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। প্রতিদিন ৩০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
যেসব উপকার পাবেন
* নিয়মিত ব্যায়াম করলে লিভারে জমা থাকা অতিরিক্ত চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইড সরাসরি শক্তি হিসেবে বার্ন হতে শুরু করে, যা লিভারের চর্বি দ্রুত কমায়। এটি লিভারের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমিয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারের এনজাইমগুলোর মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
* ব্যায়াম করার ফলে শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর হয়, যা ফ্যাটি লিভার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, ফলে পেটের ভেতরের ক্ষতিকর চর্বি এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন দ্রুত কমে আসে।
* কার্ডিও এবং ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ভবিষ্যৎ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধের উপর নির্ভর করলেই হবে না। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনাও জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা যোগাসন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সুষম খাবার লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
Office Address: House-969, Floor-3, Road No-15, Avenue-2, DOHS, Mirpur, Dhaka-1216. Hotline: 01713780618, W/A No:01713780618, Gmail: dtntv79@gmail.com.
Copyright © 2026 Durniti Talash News Tv. All rights reserved.