২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। বিশেষ করে গাবতলীর একটি কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ পাস না করায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।
বগুড়ার পাঁচ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য
বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তাসলিম উদ্দিন তারাফদার কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, ধুনটের গোসাইবাড়ী উইমেন্স কলেজ থেকে দুজন, কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল উইমেন্স কলেজ থেকে দুজন এবং একই উপজেলার আল্লামের তাকিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর মধ্যে একটি কলেজের ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অনুত্তীর্ণ হওয়া বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। তবে শুধু ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বা শিক্ষকদের দায় নির্ধারণ করা যায় না; এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান প্রয়োজন।
আট জেলার ৩৯ প্রতিষ্ঠানের চিত্র
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার মধ্যে নাটোরে ১২টি প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন, নওগাঁয় ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন, বগুড়ায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন, রাজশাহীতে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন, সিরাজগঞ্জে চারটি প্রতিষ্ঠানের ছয়জন, পাবনায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন, জয়পুরহাটে দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
অর্থাৎ, ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৮৬ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য। এই পরিসংখ্যান আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাঠদান এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ফলাফল নিয়ে শিক্ষাবিদদের ভিন্নমত
এবারের এইচএসসি ফলাফলকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের বক্তব্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. বেল্লাল হোসেন বলেন, এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পাসের হারকে ফল বিপর্যয় বলা যাবে না। তাঁর মতে, এটিই স্বাভাবিক ফলাফল। অতীতে পাসের হার বেশি দেখানোর প্রবণতা ছিল। রাজশাহী বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রভাবেও এসএসসি পর্যায়ে পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী তৌহিদুল আলম বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফলাফলের অবনতি হয়েছে বলা যায়। তবে নব্বইয়ের দশকের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ফলাফল ততটা খারাপ নয়। প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার তুলনামূলকভাবে যথাযথ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
কেন গুরুত্ব পাচ্ছে শূন্য পাসের ফলাফল?
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলকে কেবল পরীক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি—সবকিছুই ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কোথায় ঘাটতি ছিল, নিয়মিত পাঠদান কতটা কার্যকর ছিল এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের শিক্ষা সহায়তা দিয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
শুধু পাসের হার নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই চ্যালেঞ্জ
শিক্ষাবিদদের বক্তব্য ও প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, শিক্ষার মান মূল্যায়নে শুধু পাসের হার বিবেচনা করলেই চলবে না। শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পরিবেশ কেমন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সহায়তা রয়েছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
বগুড়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানসহ রাজশাহী বোর্ডের ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনার বিষয়। প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় তদারকি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
Office Address: House-969, Floor-3, Road No-15, Avenue-2, DOHS, Mirpur, Dhaka-1216. Hotline: 01713780618, W/A No:01713780618, Gmail: dtntv79@gmail.com.
Copyright © 2026 Durniti Talash News Tv. All rights reserved.