ডেস্ক রিপোর্ট: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, জরিমানা এবং জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই দফায় ভাড়া বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কষ্ট তো হবে। কষ্ট তো আর অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বাস্তবিকভাবে জ্বালানি সংকট এবং জ্বালানির প্রাপ্যতা বিবেচনা করলে রাষ্ট্রকে তো সমন্বয় করতে হয়।’
জ্বালানির দাম কমার সময় পরিবহন ভাড়া কমানো হয়নি, অথচ এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছি। আলোচনার পর আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি। অনেক কিছুই বিবেচনায় আছে। তবে বাস্তবতা হলো, পরিবহন খাতের ব্যয় বেড়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘ডলারের ব্যয় বেড়েছে। তারা প্রায় ২০ পয়সার মতো সেখানে দাবি করে। যাদের যানবাহন আছে, তারা জানেন যে এর যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম কতটা বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী দাম বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সবসময় জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবহন খাতে যে প্রভাব পড়ে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেই প্রভাব আমরা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পেরেছি কি না—সেটাই প্রশ্ন।’
নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমরা ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছিলাম। তা কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি কেউ নেয়নি। এবার প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে, প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ার কারণে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে গতকাল দু-এক জায়গায় বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয়েছে। এই প্রবণতাটা আমাদের দেশে আছে। আমাদের দেশের পরিবহন খাত একেবারে সুশৃঙ্খল এবং নীতি-নির্ধারণ ও আদেশ মেনে চলে—তা তো নয়। এটা স্বীকার করতেই হবে।’
‘যদি কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট বাতিল হবে। তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। ভবিষ্যতে তার রুট পারমিট থাকবে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠবে।’
মনিটরিং কঠোরভাবে থাকবে কি না—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, গতবার আমি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শুরু করেছি। দেখেন, থাকে কি না।’
জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বাড়লে পণ্যের দামও বাড়ে—সাধারণ মানুষের এমন উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন খাত কাজ করছে। আমি পরিবহন ভাড়া নির্দিষ্ট করতে পেরেছি। রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দেখতে হবে, প্রয়োজনীয় বাড়তি তেলের দামের যেন অপব্যবহার না হয় এবং এর কারণে মানুষ যেন যৌক্তিক পর্যায়ের চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে না পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘এটা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, পরিবহনের সংশ্লিষ্ট খাত আছে, ব্যবসায়ীরা আছেন—সবাইকে সংযত থাকতে হবে।’
সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত, তারাও জনগণের অংশ। এই খাতেও ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক রয়েছেন। তারা যৌক্তিক পর্যায়ে ভাড়া বাড়াবেন এবং তা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখবেন—এটা নিশ্চিত করা আমাদের কাজ। তবে তারা বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটিও রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। আবার জনগণও বেশি ভাড়া দেবে—সেটাও কাম্য নয়। জনগণ যৌক্তিক ভাড়া দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাড়া বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব তো সব জায়গাতেই আছে। তবে সেই প্রভাব আমরা যৌক্তিকভাবে ভাগ করে নিতে চাই।’
Office Address: House-969, Floor-3, Road No-15, Avenue-2, DOHS, Mirpur, Dhaka-1216. Hotline: 01713780618, W/A No:01713780618, Gmail: dtntv79@gmail.com.
Copyright © 2026 Durniti Talash News Tv. All rights reserved.