ডেস্ক রিপোর্ট:
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩২ জন

পাঁচ মিনিটের নিয়মে কি বদলে যেতে পারে কাজের অভ্যাস?

দিনভর করার মতো কাজের যেন শেষ নেই। কোনও কাজ এখনই করতে হবে, কোনোটি একটু পরে করলেও চলবে, আবার কিছু কাজ এত ছোট যে সেগুলো আলাদা করে করার প্রয়োজনই আছে বলে মনে হয় না।

তাই ছোট কাজগুলো জমতে জমতে একসময় তৈরি হয় দীর্ঘ তালিকা। মেসেজ পাঠানো, কাগজ গুছিয়ে রাখা, কোনো আমন্ত্রণের উত্তর দেওয়া বা ঘরের সামান্য অগোছালো অংশ ঠিক করার মতো কাজগুলো প্রায়ই পরে করার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

তবে সেই ‘পরে’ কখনও কখনও দিনের পর দিন পিছিয়ে যায়। আর ছোট ছোট অসমাপ্ত কাজের এই ভিড় শুধু কাজের তালিকাকেই বড় করে না, মনের ওপরও তৈরি করতে পারে চাপ।

এই অভ্যাস বদলানোর একটি সহজ পদ্ধতি পরিচিতি পাচ্ছে, যার নাম ‘পাঁচ মিনিটের নিয়ম’।

নামের মধ্যেই রয়েছে এর মূল কথা। কোনও কাজ করতে পাঁচ মিনিট বা তার কম সময় লাগলে সেটি পরে করার জন্য জমিয়ে না রেখে সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গেই করে ফেলা।

পদ্ধতিটি খুব সহজ হলেও, এটি কাজ শুরু করার মানসিক বাধা কমিয়ে আনতে কার্যকর হতে পারে৷

ছোট কাজ জমে বড় বোঝা

সময়ের ব্যবস্থাপনা, উৎপাদনশীলতা ও নেতৃত্ব বিষয়ে মার্কিন প্রশিক্ষক অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গার রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ছোট ছোট কাজ জমে যাওয়ার প্রবণতা কাজের ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভারী করে তোলে।”

আবার সবকিছু মনে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে কাজের তালিকায় এমন অনেক ছোট কাজ ঢুকে পড়ে, যা আসলে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর এই কাজই না করতে করতে জমতে থাকে।

এমন অবস্থায় পাঁচ মিনিটের নিয়ম কাজে লাগতে পারে।

কোনো কাজ যদি খুব অল্প সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটিকে আলাদা করে লিখে রাখার বদলে সঙ্গে সঙ্গে শেষ করে দিতে হবে। এতে কাজের তালিকা ছোট থাকে আর বারবার একই কাজের কথা মনে করার প্রয়োজন হয় না।

আরো পড়ুন:

জেন্ডায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই, জানালেন মা

টেবিলের ওপর একটি কাগজ পড়ে আছে। সেটি ঠিক জায়গায় রেখে দিতে বেশিক্ষণ লাগে না। কারও পাঠানো মেসেজের উত্তর দিতে লাগতে পারে দুই মিনিট। কোনো আমন্ত্রণের উত্তর জানাতেও হয়ত খুব বেশি সময় প্রয়োজন নেই।

“এমন কাজগুলো পরে করার জন্য জমিয়ে না রেখে তখনই শেষ করা হলে দিনের শেষে অসমাপ্ত কাজের সংখ্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে”, বলেন অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গার।

নিয়মটি যেভাবে কাজ করে

পাঁচ মিনিটের নিয়মের মূল ধারণা হল, কোনো কাজ পাঁচ মিনিটের মধ্যে করা সম্ভব হলে সেটি এখনই করে ফেলা।

তবে কাজটি করতে ঠিক কতক্ষণ লাগবে সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলে, পাঁচ মিনিটের জন্য সময় নির্ধারণ করে কাজ শুরু করা যায়।

পাঁচ মিনিট পরও যদি কাজটি পুরোপুরি শেষ না হয়, তাহলে সেটি আর জোর করে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং তখন বুঝে নিতে হবে যে, এটি আসলে ছোট কাজ নয়। তখন পরবর্তী সময়ের জন্য কাজের তালিকায় রাখা দরকার।

আরো পড়ুন:

রাজধানীর চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

এই পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, কাজ শুরু করা। অনেক সময় কোনো কাজ কঠিন হওয়ার কারণে নয়, বরং শুরু করার ইচ্ছা না থাকার কারণেই সেটি পিছিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটের সীমা সেই মানসিক বাধাটিকে ছোট করে আনে।

পুরো কাজ শেষ করার কথা না ভেবে শুধু পাঁচ মিনিট করার কথা ভাবলে শুরু করা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

কাজের তালিকা ছোট, মনও হালকা

অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গার বলেন, “কাজের দীর্ঘ তালিকা অনেক সময় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তালিকায় যত বেশি কাজ থাকে, তত বেশি মনে হয় অনেক কিছু বাকি। অথচ সেই তালিকার একটি বড় অংশ হয়ত এমন কাজ দিয়ে তৈরি, যেগুলো কয়েক মিনিটেই শেষ করা সম্ভব।”

পাঁচ মিনিটের নিয়ম এই ছোট কাজগুলোকে তালিকা থেকে কমিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি করে।

কী কী কাজ করতে হবে সেই তালিকার চেয়ে, কী কী কাজ শেষ করেছেন সেই তালিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে- এই পদ্ধতি ইতিবাচক গতি তৈরি করতে পারে।

পাঁচ মিনিট মানেই সব কাজ শেষ নয়

“তবে এই নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো কাজ শুরু করার সময় সেটিকে পাঁচ মিনিটের কাজ মনে হলেও শুরু করার পর দেখা যেতে পারে, কাজটি আসলে অনেক বড়। হয়তো আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে বা কাজটি শেষ করতে প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত সময়”, বলেন অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গার।

আরো পড়ুন:

ডিজিটাল আইডেনটিটি সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

এমন পরিস্থিতিতে পাঁচ মিনিট পার হওয়ার পর কাজটি থামিয়ে রাখা ভালো। কাজটি যদি প্রত্যাশার চেয়ে বড় হয়ে যায়, তাহলে সেটিকে কাজের তালিকায় লিখে রেখে আগে থেকে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ফিরে যাওয়া উচিত।

কারণ পাঁচ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য কখনই বড় কাজকে ছোট বলে ধরে নিয়ে সবকিছু ফেলে সেটাতে লেগে থাকা নয়।

গুরুত্বপূর্ণ কাজের পথে বাধা যেন না হয়

পাঁচ মিনিটের নিয়ম অনুসরণ করতে ছোট কাজ দ্রুত করা ভালো হলেও, সেই কাজগুলো যেন গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে বাধা তৈরি না করে।

অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গারের মতে, “পাঁচ মিনিটের নিয়ম মানার অর্থ এই নয় যে, কাজের মাঝখানে যেকোনো ছোট বিষয় সামনে এলেই সেটি করতে হবে। এতে বরং মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।”

এক্ষেত্রে হঠাৎ ছোট কোনো কাজের কথা মনে পড়লে সেটি লিখে রাখা যায়। পরে কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে, দুপুরের বিরতির আগে বা দিনের শেষে সেই ছোট কাজগুলো একসঙ্গে শেষ করা যায়।

অর্থাৎ নিয়মটির আসল উদ্দেশ্য হল, ছোট কাজকে নিয়ন্ত্রণ করা।

অভ্যাস গড়ার উপায়

এই নিয়ম শুরু করার জন্য দিনের শুরুতেই ছোট কাজগুলোর দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। কোন কাজ কয়েক মিনিটে শেষ করা সম্ভব, আর কোন কাজের জন্য আলাদা সময় প্রয়োজন— এই পার্থক্য বুঝে নেওয়াই প্রথম ধাপ।

অ্যালেক্সিস হ্যাসেলবার্গার পরামর্শ দেন, “যে কাজ সত্যিই পাঁচ মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়, সেটি সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে। কাজটি বড় হয়ে গেলে থেমে, পরে করার জন্য লিখে রাখা যেতে পারে।”

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঁচ মিনিটের নিয়মে কি বদলে যেতে পারে কাজের অভ্যাস?

জেন্ডায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই, জানালেন মা

রাজধানীর চারপাশের নদী রক্ষায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সেল গঠন

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আগে ‘বিহারের উদ্বেগ’ বিবেচনায় নেবে ভারত

ডিজিটাল আইডেনটিটি সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

চাঁদা দাবি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে চট্টগ্রামে ১ জন গ্রেফতার

খুলনায় ভুয়া সাংবাদিক-মানবাধিকার চক্রের ৪ সদস্য আটক

কালিয়াকৈরে পৌর যুবলীগের কমিটি ঘোষণা ও ঝটিকা মিছিল

মেধা নয়, মনুষ্যত্বই মানুষের প্রকৃত পরিচয়

শাহজাদপুরবাসীর আস্থা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসেস সাবরিনা

১০

উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহে অনিয়ম পরিদর্শনে এমপি

১১

খুলনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

১২

সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি

১৩

দাগহীন আলু কীভাবে চিনবেন, সংরক্ষণের উপায়

১৪

ঘুম ভাঙতেই শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ

১৫

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হতে পারে যেসব মারাত্মক রোগ

১৬

ইফতারের পর শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করবেন যেভাবে

১৭