পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপন, স্বজনদের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিষ্টিমুখ করানোর রীতি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মিষ্টি ও দইয়ের জন্য পরিচিত বগুড়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকে ঘিরে প্রতিবছর মিষ্টির দোকানগুলোতে বাড়তি ব্যস্ততা দেখা যায়। তবে এবার সেই চেনা চিত্রে ভাটা পড়েছে। ফলাফলে প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তুলনামূলক কম থাকায় বগুড়ার মিষ্টির বাজারেও দেখা গেছে তার প্রভাব।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বগুড়া শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে তেমন বাড়তি ক্রেতার উপস্থিতি দেখা যায়নি। সাধারণত ফল প্রকাশের পর আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণের জন্য দোকানগুলোতে কেনাকাটার চাপ বাড়ে। কিন্তু এবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক দোকানে দিনের স্বাভাবিক উৎপাদিত মিষ্টির উল্লেখযোগ্য অংশ অবিক্রীত থেকে যায়।
শহরের সাতমাথা গোলচত্বরসংলগ্ন মিষ্টির দোকান, বিআরটিসি শপিং সেন্টারের গলির কয়েকটি দোকান এবং কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের এশিয়া সুইটস, আকবরিয়া, কোয়ালিটি ও শ্যামলী হোটেলের মিষ্টির শোরুমগুলোতে ছিল না বাড়তি ক্রেতার ভিড়। ফল প্রকাশের দিনকে কেন্দ্র করে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা, এবার তার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম।
বগুড়ার মিষ্টির দোকানগুলোতে সাধারণত পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনেরা মিষ্টি কিনে থাকেন। কিন্তু ফলাফলে প্রত্যাশিত সাফল্য না থাকলে অনেক পরিবারে উদ্যাপনের আয়োজনও সীমিত হয়ে পড়ে। এবারের ফল প্রকাশের দিনে মিষ্টির দোকানগুলোতে ক্রেতার কম উপস্থিতি সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বছরের ফলাফল ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশার চিত্র যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি তার প্রভাব পড়েছে ফল প্রকাশকেন্দ্রিক সামাজিক আয়োজনেও। বগুড়ার মতো মিষ্টির ঐতিহ্যবাহী শহরে এমন দিনে মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়া ছিল ব্যতিক্রমী চিত্র।
তবে এক দিনের বিক্রির পরিস্থিতি দিয়ে পুরো মিষ্টি ব্যবসার সামগ্রিক অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। তারপরও এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে মিষ্টির দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকা এবং প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়া এবারের ফলাফল ঘিরে সামাজিক পরিবেশের একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন