ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে
আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকে রোববার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে গাজীপুরে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর, মৌচাক, পল্লীবিদ্যুত বাজার, আনসার একাডেমি ও হরিনাহটি এলাকায় অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। এতে ওই মহাসড়কে প্রায় ৬ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধার ধাকার পর বিকাল তিনটার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে কোনাবাড়িতে একটি পুলিশ বক্সে, ও হরিনাহি এলাকার একটি কারখানার জুটের গোডাইনে ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেট নিক্ষেপ করে। এসময় ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে রণক্ষেত্র পরিনত হয়।
খোজ নিয়ে জানা যায়, রোববার সকালে কারখানা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। পরে তারা কারখানা হতে সকাল আটটার দিকে বের হয়ে মহাসড়ক অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের কারনে আশপাশের ৮ থেকে ১০ কারখানা ছুটি দিলে ওই কারখানা গুলোর হাজার হাজার শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় ওই মহাসড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েছে যাত্রীসহ সাধারন পথচারীসহ রোগীবাহী এম্বুলেন্স।এদিকে শ্রমিকরা মহাসড়কের প্রায় ৩০ বেশির পয়েন্টে অগ্নি সংযোগ করে।
পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। গতশনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। রাতে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলেও সকাল হতে আবারও মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ শ্রমিকরা। এতে প্রায় ৬ ঘন্টা যানচলাচল বন্ধা থাকার পর পুলিশ বিকাল তিনটার দিকে শ্রমিকদের সড়িয়ে দিলে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন