বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।
অভিযোগে বলা হয়, একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা–জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাস থামান। পরে তাঁরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন নিয়ে যান। এরপর তাঁকে শিবগঞ্জের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ৩৩। পুলিশ জানায়, দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের (পিপিএম) নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. জাহাঙ্গীর কবির ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। অভিযানে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার মো. সাদিকুল ইসলাম (২০) ও মো. আলমগীর হোসেন (৪৩), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে সাদিকুলকে এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকা থেকে মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও মো. আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা, সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং উদ্ধার করা অর্থের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন