ব্যাট হাতে জো রুট ক্রিজে নামা মানেই যেন ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের পাতায় নতুন কোনো ইতিহাসের সংযোজন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও এর ব্যতিক্রম হলো না। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মাঠে নেমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার।
এই মাইলফলক ছুঁতে রুট নিয়েছেন ৫২১ ইনিংস। এর মধ্য দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ২৩ হাজার রান করা ব্যাটারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মাইলফলক থেকে মাত্র তিন রান দূরে ছিলেন রুট। এরপর দারুণ এক রিস্ট ফ্লিকে বলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত ২৩ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছে যান তিনি। সেই এক চারেই রেকর্ড বইয়ে নতুন ইতিহাস লেখেন ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৩ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছাতে রুট খেলেছেন ৫২১ ইনিংস। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে। শচীন ৫২২ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ফলে দ্রুততম ২৩ হাজার রানের তালিকায় রুট এখন বিশ্ব ক্রিকেটের দ্বিতীয় ব্যাটার।
এই তালিকায় রুটের ওপরে রয়েছেন কেবল ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। তিনি মাত্র ৪৯০ ইনিংসে ২৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩ হাজার বা তার বেশি রান করা ব্যাটার এখন মাত্র আটজন। রুটের আগে এই তালিকায় ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, বিরাট কোহলি, রাহুল দ্রাবিড়, কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, রিকি পন্টিং ও জ্যাক ক্যালিস। রুটই প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে এই অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন।
টেস্ট ক্রিকেটেও রুটের রেকর্ড ভাঙার যাত্রা শুরু হয়েছে বেশ আগেই। সম্প্রতি টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নিয়ে শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। এখন সবার নজর, টেস্টে শচীনের সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড রুট ভাঙতে পারেন কি না, সেদিকে।
লাল বলের ক্রিকেটে শচীনের সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ড ইতোমধ্যে নিজের দখলে নিয়েছেন রুট। বর্তমানে টেস্টে ১৪ হাজার ২৭৮ রান করেছেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার। শচীনের ১৫ হাজার ৯২১ রানের চেয়ে তিনি পিছিয়ে আছেন ১ হাজার ৬৪৩ রানে।
আগামী ডিসেম্বরে ৩৬ বছরে পা দিতে যাওয়া রুটের ব্যাটে অবশ্য ক্লান্তির কোনো ছাপ নেই। শচীনের খেলা সর্বাধিক ২০০ টেস্ট ম্যাচের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করতেও তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৩১টি ম্যাচ।
মন্তব্য করুন