সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুই শহর নাজরান ও জিজানে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় স্বল্প সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরই শহর দুটিকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার এ সতর্কসংকেত সক্রিয় করা হয়।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাজরান ও জিজানের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। এ সময় তাঁদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানায়, উভয় শহরেই সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। তবে কী ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছিল কিংবা এর উৎস কোথায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ওই ঘটনার একদিন পরই নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনার সময় রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী আল-খার্জ গভর্নরেটেও সতর্কসংকেত সক্রিয় করা হয়েছিল। পরে এসব এলাকাতেও বিপদের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার ঘোষণা দেয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির কয়েকটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই থেকে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় আগাম সতর্কতা জারির ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও নাজরান ও জিজানে জারি করা সর্বশেষ সতর্কতার সঙ্গে আগের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন