দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সিজারমূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযানে এসব প্রত্নসম্পদ উদ্ধার করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি ও এলআই বিজিবির একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলাাধীন তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
এরপর একই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাাধীন চান্দোহর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের খণ্ডাংশ, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযানে উদ্ধার করা পাথরের খণ্ডাংশগুলোর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ২২৪ কেজি ৪০০ গ্রাম।
বিজিবি জানিয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, যা ১৯৭৬ সালে সংশোধিত হয়, অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়ীত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশের মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব নিদর্শনের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ অর্থমূল্যের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্রসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব নিদর্শন উদ্ধার দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন