মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে এবার আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাঠের ফসলের অবস্থা বিবেচনায় এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি ধান ও চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ২০ হেক্টর। এর বিপরীতে শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।
আমন আবাদ সম্প্রসারণে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট, সিলেট অঞ্চলের শস্যের নিবিড়তা প্রকল্প, রাজস্ব খাত ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আধুনিক ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে স্থাপন করা হয় ১৩৫টি প্রদর্শনী প্লট। পাশাপাশি ৩ হাজার ৩৬৫ জন কৃষকের মধ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, কৃষকদের আন্তরিকতা, সময়োপযোগী কৃষি পরামর্শ এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে আমনের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করার চেষ্টা চলছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। আর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ধান ও চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও তদারকির ফলে এবার আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন