পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ধনিপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের শিকার হয়ে পড়েছে। নামমাত্র সাইনবোর্ডসর্বস্ব এই ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা একপ্রকার থমকে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসে প্রায় ২০ দিনই তালাবন্ধ থাকে ক্লিনিকটি। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে সংসারের কাজকর্ম ফেলে ও দীর্ঘ সময় অর্থ ব্যয় করে তাদের ছুটতে হচ্ছে শহরের হাসপাতালে। এতে সব দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর ধরে এই ক্লিনিকটিতে অনিয়ম চললেও গত ৫ মাস ধরে এর মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো বালাই নেই।
ক্লিনিকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সারোয়ার আলম মাসের বেশিরভাগ সময়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। কদাচিৎ মাসে ৫-৭ দিন অফিসে এলেও বড়জোর আধা ঘণ্টা অবস্থান করে দ্রুত চলে যান তিনি। এর আগেও তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কর্মস্থল থেকে শাস্তিূলক (পানিশমেন্ট) বদলি হয়ে এই কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। দরিদ্র এই জনপদের মানুষ সামান্য চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্যও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মাগুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি করিম মণ্ডল সহ একাধিক এলাকাবাসি বলেন,“আমাদের এই ইউনিয়নটি একটি দরিদ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। অথচ ক্লিনিকটির অবস্থা সম্পূর্ণ নাজেহাল এবং এটি সব সময়ই তালাবন্ধ থাকে। হঠাৎ কখনো আসলে আধাঘন্টা থাকে না, ঠিকমত ঔষধ পাওয়া যায়না, আশপাশের প্রায় দুই হাজার সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে। সেবার মান ভালো রাখতে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ক্লিনিকটি দ্রুত নিয়মিত চালুর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তিনি অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“উক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্বে যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। তিনি অফিসে বারবার অনুপস্থিত থাকায় ইতিপূর্বে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। হাজিরা খাতায় সই করে অথচ অফিস করে না, আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দিয়েছি; সেই চিঠির উত্তর পেলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন