দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী আহমেদ জাকির এর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করেছে জেলা কমিটি। তবে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে।
গত রোববার (১ নভেম্বর) জেলা কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম হাসানুর রহমান সোহাগ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মো. ইমরান চৌধুরী নিশাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাকির আহমেদকে সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি লিখিত ব্যাখ্যার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করেন। জেলা কমিটি সেসব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক মনে করায় তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, জাকির আহমেদ বর্তমান জেলা আহ্বায়কের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। বিষয়টি জেলা কমিটির সভায় উত্থাপিত হলে তিনি প্রস্তাব দেন, ফুলবাড়ীতে বর্তমানে সমন্বয় কমিটিতে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। কিন্তু তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।
ইমরান চৌধুরী আরও বলেন, ফুলবাড়ী এনসিপির কারও সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা মতামত না নিয়েই জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মতামত উপেক্ষা করে এভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে জাকির আহমেদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত জেলা কমিটির কাছে উপস্থাপন করেছেন। জেলা কমিটি সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন