মঈনউদ্দিন মনি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩৩ জন

সৌদি মুলুকিয়ত: রাজতন্ত্রের বিচারহীনতা, অভিবাসী নির্যাতন ও ঐতিহাসিক দ্বিমুখী নীতি কলমে: এস এম আবদুল বারেক

 

 

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা একটি অমানবিক বর্বর ঘটনা। ইসলামের দুশমন আমার প্রাণকেন্দ্র আল আরব দখলকারী ইহুদির দাস সৌদি ওয়াবি বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

পাকিস্তানি একজন লোক দুশমনি করে ভিডিও করে ভিডিওটা মসজিদের ভিতর না হওয়া সত্তেও ফাঁসানোর উদ্দেশ্য বারবার মক্কার মসজিদ ভিতর মক্কার মসজিদ ভিতর বললে সৌদি ওয়াবিচক্র যাচাই বাছাই না করে তা দিয়েই বিচার করে।

যেখানে বলা হয়, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে একরকম অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ছিল! যা সাধারণত প্রেমিক প্রেমিকারা করে থাকে। কিন্তু আসলে ঘটনা কি ছিল তার যাচাই বাছাই করা বা যাদের অপরাধী বলা হচ্ছে তাদের পক্ষে এডভোকেট নিয়োগ করে সত্যতা যাচাই করার কোন সুযোগ না দিয়ে এভাবে অমানবিক শিরুচ্ছেদ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা কেবল একটি বিচারিক সংবাদ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের বুকে গড়ে ওঠা এক কাঠামোগত নিপীড়ন, বৈষম্য এবং বিচারহীনতার এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। অবৈধ সৌদি রাষ্ট্রযন্ত্রের তথাকথিত “শরিয়াহ আইন” ও “রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির” আবরণে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে, তা আজ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত। একদিকে গরিব ও অসহায় প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর পৈশাচিক কড়াকড়ি এবং অন্যদিকে রাজপরিবারের সদস্য ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সীমাহীন নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধের অবাধ লাইসেন্স—সৌদি শাসন ব্যবস্থার এই দ্বিমুখী রূপ আজ আর প্রমাণের অপেক্ষায় রাখে না।

বিচারহীনতা ও বৈষম্যের যাঁতাকলে প্রবাসী শ্রমিক ও গরিব মানুষ: সৌদি আদালতে গরিব ও প্রান্তিক প্রবাসীদের জন্য ন্যায়বিচার আজ এক অলীক কল্পনা। হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক প্রতিনিয়ত বেতন না পাওয়া, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, অমানবিক কর্মঘণ্টা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অথচ তাদের সামান্যতম প্রতিবাদের পথও রুদ্ধ।

আইনের নামে প্রহসন: বড় বড় অপরাধ, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতাশালীদের নৈতিক পতন যেখানে বিচারবহির্ভূত থেকে যায় বা ধামাচাপা দেওয়া হয়, সেখানে গরিব প্রবাসী শ্রমিকদের সামান্য চুমু দেওয়ার অজুহাতে বা ভিত্তিহীন অভিযোগে দ্রুততম সময়ে চরম শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রতিরক্ষার অধিকারহীনতা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার নোটিশ না দেওয়া, আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না রাখা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সৌদি বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড তো দূরের কথা, ন্যুনতম মানবিক বিচারবোধের ধারণাকেও ধারণ করে না। অসহায় প্রবাসীরা সেখানে কেবল কিছু সস্তা শ্রমের পুতুল মাত্র, যাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই।

ইসলামী নিদর্শন ধ্বংস ও উগ্রবাদী নীতির ইতিকথা: যে ভূমি ইসলামের সূতিকাগার এবং পবিত্র দুই মসজিদের কেন্দ্র, আজ সেই পবিত্র ভূমিকেই আধুনিক জাহিলিয়াত ও রাজতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিনাশ: সৌদির বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী ও তাদের মদদপুষ্ট উগ্র ওয়াহাবি নীতি বাস্তবায়নের নামে মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক বহু পবিত্র নিদর্শন, সাহাবি ও আহলে বাইতের স্মৃতি বিজড়িত স্থান এবং প্রাচীন স্থাপত্য ধ্বংস করে দিয়েছে। জাবালে আবু কুবাইস কিংবা ঐতিহাসিক কবরস্থানগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে ইসলামের প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছে।

ইসলামের নামে ভণ্ডামি: বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে জাহির করলেও, তাদের অভ্যন্তরীণ নীতি ইসলামবিরোধী ঔদ্ধত্যে ভরা। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হেনে ইসলামকে নিজেদের রাজনৈতিক ও রাজতান্ত্রিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার বানানো হয়েছে।

ইঙ্গ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদেও দালাল ও ইহুদি দাশের ইতিহাস: আজকের সৌদি রাজতন্ত্রের শেকড় অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এটি জন্মলগ্ন থেকেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে আপস ও দাসত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বেলফোর ঘোষণা ও ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের কুখ্যাত ‘বেলফোর ঘোষণা’ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে পশ্চিমা দালাল হিসেবে এই গোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে পশ্চিমা শক্তির হাতে তুলে দিয়ে এই রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী নিজেদের সিংহাসন চিরস্থায়ী করেছে।

বিশ্বব্যাপ ী অশান্তি ও ধ্বংসযজ্ঞ: ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান আঞ্চলিক দালাল হিসেবে সৌদি গোষ্ঠী ইয়েমেন থেকে শুরু করে সিরিয়া ও বিভিন্ন মুসলিম দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রাঙিয়ে তারা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল ধরানো এবং সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করাই এদের মূল নীতি।

রাজপরিবারের ফুর্তি মদ ও নৈতিক অবক্ষয় বনাম দ্বিমুখী বিচার: অবৈধ সৌদি গোষ্ঠীর তথাকথিত নৈতিকতা ও শরিয়াহর কঠোরতা কেবল সাধারণ প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য। অথচ মদের নেশা, ফাইভ স্টার হোটেলে নাইটক্লাব কালচার, এবং নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে রাজপরিবারের সদস্য বা উধ্বতন কর্মকর্তারা বরাবরই দায়মক্তি পেয়ে আসছে।

হোটেল সংস্কৃতি ও কেলেঙ্কারি: লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে পশ্চিমা বিভিন্ন প্রমোদকেন্দ্রে সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের মদ্যপান, মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহু ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস বা লন্ডনে তাদের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের মামলা হলেও ডলারে মুখ বন্ধ করে বা কূটনৈতিক দায়মুক্তির আড়ালে সেসব ধামাচাপা দেওয়া হয়।

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড: সাধারণ একজন গরিব মানুষ সামান্য মানবিক আবেগের প্রকাশ ঘটালেও যেখানে রাষ্ট্রদ্রোহ বা মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া নেমে আসে, সেখানে রাজপরিবারের প্রিন্সদের হাজারো অপরাধ চোখের পলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এই চরম বৈষম্য ও দ্বিমুখী নীতিই প্রমাণ করে যে সৌদির আইন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও শোষণের হাতিয়ার।

#সর্বোপরি: আজ বিশ্বজুড়ে সচেতন মানুষ এই মুলুকিয়ত / রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বরূপ অনুধাবন করতে পেরেছে। গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া, সাম্রাজ্যবাদের দাসত্ব করা এবং ইসলামের পবিত্রতার মোড়কে নিজেদের কুৎসিত রাজত্ব টিকিয়ে রাখার এই দিন শেষ হয়ে আসছে। বাংলার মাটি থেকে শুরু করে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর বিবেক আজ এই নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগ্রত হচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী ও দালাল গোষ্ঠীর পতন অবশ্যম্ভাবী, কারণ অন্যায়ের রাজত্ব কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না।

#আহবান: এরা এই সৌদি ওয়াবি গোত্রবাদী মুসলমান নয় এরা মুলত ইসলামের দুশমন এদের সম্পর্কে মহান প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্তক করে বলেছেন এই রিযাদ(পূর্বের নাম নজদ) থেকে শয়তানের শিং বের হবে এবং তারা ইসলামের প্রচুর ক্ষতি করবে বর্তমানে তাই হচ্ছে।। সাথে সাথে আরও বলেছেন আরবের পূর্বপ্রান্তর হতে কালো পতাকাবাহী ইসলাম রক্ষাকারী বাহিনী সে ইসলামের দুশমন কে উৎখাতে কাজ করবে এগিয়ে আসবে এবং তাদের উৎখাত করবে।। সুতরাং আসুন সেই সত্যের বিপ্লবী অভিযাত্রায় সব মানুষের অধিকার স্বাধীনতা ভিত্তিক সার্বজনীন মানবিক দুনিয়া গড়ার লক্ষ্যে আমরা পুনরায় এগিয়ে আসি এবং গড়ে তুলি বস্তুর উর্ধ্বে মানবসত্তার প্রবক্ত আল্লামা ইমাম হায়াত প্রবর্তিত ইনসানিয়াত বিপ্লব।

 

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের সাথে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের মতবিনিময়

১

রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে যৌথ অভিযানে ১৭ জনের কারাদণ্ড

২

শারদীয় দুর্গোৎসবে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার 

৩

কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে ২ যুবক

৪

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা সজাগ পুলিশ:কুমিল্লায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি

৫

দাউদকান্দিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত আরও ২

৬

মদনে হাওরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ মাওলানা সাইফুল ইসলামের উদ্যোগ: টিউবওয়েল স্থাপন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

৭

ধানগড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী হতে চান মোঃ মাসুদ রানা

৮

নরসিংদীর,শিবপুরে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ জব্দ ভেকু মেশিন

৯

ব্রাহ্মণপাড়ার ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান ডাকাত চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার

১০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় এডিস মশার লার্ভা নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি বুলবুল

১১

সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ, পরিদর্শনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী

১২

দৈনিক পঞ্চগড় খবরের আয়োজনে পঞ্চগড়ে সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৩

হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্তে ২৪৩ বোতল মদ ও নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার বিজিবির

১৪

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সর্বদা প্রস্তুত

১৫

হামলার শঙ্কায় সৌদি আরব রিয়াদের কিংডম সেন্টারের অফিস বন্ধ

১৬

বিয়ের আগের দিন বর সৌমিকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

১৭

সৌদি মুলুকিয়ত: রাজতন্ত্রের বিচারহীনতা, অভিবাসী নির্যাতন ও ঐতিহাসিক দ্বিমুখী নীতি কলমে: এস এম আবদুল বারেক

১৮

শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু

১৯

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একদিনে চার অভিযান, ভারতীয় পণ্য ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৩

২০