চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ১০ বছর লীজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক জমি ও নির্মিত ঘর দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের অনুসারী ও সাবেক ডিআইজি নজরুলে পরিবারের বিরুদ্ধে। শুধু দখলই নয়, পাওনা সম্পত্তি ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুর রহিম (৫৩) বাদী হয়ে নাচোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মির্জাপুর মৌজার (জেএল নং-৭১, দাগ নং- ৪২৭, ৩২৫, ২৪) মোট ১১ বিঘা জমি শিবগঞ্জ থানার মহেষপুর গ্রামের মৃত আলহাজ্ব মোকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম ও তার অন্যান্য ৫ ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি উক্ত জমি দশ বছর মেয়াদে পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামের মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামান (৫৫)রিপন মিয়া এর নিকট লীজ দেওয়া হয়।
লীজের শর্তানুযায়ী বিবাদী উক্ত জমিতে আম বাগান করেন এবং বাগান দেখাশোনার সুবিধার জন্য মালিকদের অনুমতি নিয়ে একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট বাথান ঘর নির্মাণ করেন। চুক্তি ছিল লীজের মেয়াদ শেষে তিনি ঘরটি ভেঙে জমি সম্পূর্ণ খালি অবস্থায় বুঝিয়ে দেবেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, লীজ চলাকালীন কৌশলে ভুক্তভোগীদের এক ভাই মোঃ জামিরুল রহমানের কাছ থেকে বিবাদী ৩ দাগে মোট ১৩ কাঠা জমি ক্রয় করেন। কিন্তু বিবাদী চুক্তি ভেঙে রাস্তা সংলগ্ন ১টি নির্দিষ্ট মূল্যবান দাগেই সম্পূর্ণ ১৩ কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লীজের মেয়াদ শেষ হলেও বিবাদী মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামান জমি ও ঘর ছেড়ে দেননি।
অভিযোগকারী ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুর রহিম জানান, ১ নং বিবাদী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোঃ লিটনের অনুসারী এবং তার ভগ্নিপতি বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মোঃ নজরুল ইসলাম। ডিআইজি ও তার স্ত্রী মোসাঃ নুপুরের প্ররোচণায় বিবাদী সালিশী বৈঠক মানেননি এবং বাথান ঘরটি সরাননি।
সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীরা তাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বললে, বিবাদীগণ সাবেক ডিআইজির নাম ভেঙে ভয়ভীতি দেখায় এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।পরবর্তীতে গত ১৭অক্টোবর আমরা নিজেরাই নির্মিত ঘরটি ভেঙ্গে ফেলি।
ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুর রহিম আরো বলেন, ডিআইজি নজরুল ইসলামের আত্মীয় রিপন মিয়া রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিল।সেই সুবাদে আবু হেনা মোস্তফা জামান (৫৫) রিপন মিয়া আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি লীজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছে। আমরা আইনগত প্রতিকার ও আমাদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এবিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি নজরুল ইসলাম বলেন, আবু হেনা মোস্তফা জামান আমার স্ত্রীর ভাই।জমি নিয়ে সমস্যা চলছে শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমি কোন ধরনের তদবির কারো কাছে করিনি।
এ বিষয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন