শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামু উপজেলার হিমছড়ি পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। তাঁকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে দুটি পৃথক দলে কয়েকজন পর্যটক গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের প্রবল স্রোতে পাঁচজন পর্যটক ভেসে যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও লাইফগার্ড কর্মীরা একজনকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন উদ্ধার করা হয় তিন পর্যটকের মরদেহ।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মো. হারুন (২০) নামে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হিমছড়ির সাগর বিলাস এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। হারুন চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ জামতলা এলাকার মো. কবিরের ছেলে।
এ ঘটনায় ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চলছে।
পর্যটন মৌসুম ও শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বাড়ায় সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসলে নামা থেকে বিরত থাকা, লাল পতাকা ও সতর্কসংকেত মেনে চলা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, সমুদ্রসৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, পর্যাপ্ত লাইফগার্ড মোতায়েন এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানো জরুরি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন