পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান ১ একর ১৫ শতক জমিতে করলা চাষ করে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে এই কৃষকের। এ ঘটনায় একে অপরকে দুষছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক সাইদুর রহমান তার ১ একর ১৫ শতক জমিতে করলা চাষ করেছিলেন। ফলনও ভালো আসার কথা ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ক্ষেতের গাছ ও করলা পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তিনি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইদুর রহমান জানান, তিনি ১ একর ১৫ শতক জমিতে এম-পেড (M-PAD) নামক জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেছিলেন। তবে তার অন্য একটি ৪ বিঘা ক্ষেতে একই কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করা হলেও সেখানে ফসল অনেক ভালো হয়েছে। শুধু এই নির্দিষ্ট জমিটিতেই ওষুধ ব্যবহারের পর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি তার। খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা করলা ক্ষেত দেখতে আসেন, সমস্ত বিষয়টা যাচাই বাছাই করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে এম-পেড জৈব বালাইনাশক বাজারজাতকারী কোম্পানী পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেড এর ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ রুবেল ইসলাম বলেন, “ওই কৃষক করলা চাষে আমাদের কোম্পানির বালাইনাশক এম-পেড এর সাথে অন্য কোম্পানির বালাইনাশক পটেটো গার্ড ও বোরণ স্প্রে করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, এম-পেড- এর সাথে অন্য বালাইনাশক মিশ্রণ করে ফসলের ক্ষতে ব্যবহার করা যায় না। অতিরিক্ত ওষুধ মিশ্রিত হওয়ার ফলেই মূলত ফসল নষ্ট হয়েছে।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন সশরীরে ক্ষেত পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শ ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি, এবং অতিরিক্ত বালাইনাশক মিশ্রিত করে ব্যবহারের ফলেই এই ফসল নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যবহৃত ওষুধ বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করে সঠিক কারণ তুলে ধরবো।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন