পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের ভজেন্দ্রপুর গ্রামের জামিয়া ফারুকিয়া মাদরাসার এক ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ওই মাদরাসার শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ছাত্রের মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় মামলাটি করেন।
মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদরাসার আবাসিক নুরানি শ্রেণির এক ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে টিনশেডের একটি কক্ষে নিয়ে বলাৎকারের চেষ্টা করেন শিক্ষক আক্তারুজ্জামান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মো. গফুর বিশ্বাসের ছেলে। ভুক্তভোগী ছাত্র পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের মনিদহ গ্রামের মেহেদী হাসান জিল্লুর ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্র জামিয়া ফারুকিয়া মাদরাসায় আবাসিক থেকে নুরানি শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। আসামি ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বেশ কিছুদিন ধরে আক্তারুজ্জামান মাদরাসার ওই ছাত্রসহ অন্য ছাত্রদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতেন।
এজাহার অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাদরাসার কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ওই ছাত্রকে ডেকে একতলা টিনশেডের একটি কক্ষে নিয়ে কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘিরে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন আক্তারুজ্জামান। এ সময় ছাত্রটি বের হতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং কাউকে কিছু না জানানোর জন্য বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা মেহেদী হাসান জিল্লুর বলেন, ‘আমি এই ঘটনার বিচার চাই। এমন বিচার চাই, যাতে আর কোনো মাদরাসাশিক্ষক এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পান।’
পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’
মন্তব্য করুন