রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস ও ইউপিডিএফের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় ৯ বছর বয়সী শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চাইল্যাতলী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরার বাম হাতে গুলি লাগে। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তার হাত থেকে গুলি অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সে বিপদমুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো সশস্ত্র সংঘাতের কারণে শিশু কিংবা নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব সংঘাতের কারণে হতাহতের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাইল্যাতলীর সাম্প্রতিক ঘটনাটি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংগঠনটি মনে করে, পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা ও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে সাজেকের পর্যটন খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকদের যাতায়াত কমে গেলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ পাহাড়ি অঞ্চলে আইনের শাসন, শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো এবং যেকোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোনোভাবেই সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে না। নিরাপদ জনজীবন, স্বাভাবিক পর্যটন ব্যবস্থা ও আইনসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন