মোঃ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় প্রধান : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার চুরির সালিশ বৈঠকের মাত্র ২৫০০ টাকা জরিমানা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। প্রকাশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে দুইটি কোপ, হাতে কামড় দিয়ে মাংস তুলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও নগদ ১,৪০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। এই বর্বর ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা সাকিনস্থ নায়াগ্রার ডালের পাশে একটি চায়ের দোকানে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৫)বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ডাইনকিনি গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।
বিবাদীরা হলেন – ১। মোঃ এরশাদ (৪০), ২। মোঃ আশরাফুল (৩৮), ৩। মোঃ সেলিম (৩৩), সর্ব পিতা- অজ্ঞাত, সাং-সন্দুইল, থানা-গোপালপুর, জেলা-টাঙ্গাইল। বর্তমানে তারা ভুক্তভোগীর বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে ডাইনকিনি ৫ নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অনুমান এক মাস পূর্বে ১ নং বিবাদী এরশাদের রুম হইতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হয়। পরে সকল বিবাদীদের উপস্থিতিতে ঘরোয়াভাবে আপোষ মীমাংসা করিয়া বাদল নামে এক ব্যক্তি ১ নং বিবাদীকে ২৫০০/- টাকা জরিমানা দিবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।
সেই মোতাবেক গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা সাকিনস্থ নায়াগ্রার ডালের পাশে ১ নং বিবাদীর চায়ের দোকানে গিয়া টাকা দিতে চাহিলে বিবাদী টাকা না নিয়া বিভিন্ন প্রকার তালবাহানামূলক কথাবার্তা বলে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
প্রতিবাদ করিলে ১ নং বিবাদী এরশাদ তার বাম পাশের কুনুইয়ের নিচে স্বজোরে কামড় দিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে ১ নং বিবাদী তাহার দোকানে থাকা ধারালো ছুরি নিয়া তাহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে দুইটি পোচ দিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ২ ও ৩ নং বিবাদীদ্বয় সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন বিবাদী তাকে এলোপাথারি লাঠি সোটা দিয়া পিটাইয়া ও কিল ঘুষি লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
একপর্যায়ে ১ নং বিবাদী ভুক্তভোগীর নিকট থাকা নগদ ১,৪০,০০০/- টাকা নিয়া নেয়। ভুক্তভোগীর ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা তাহাকে সহ তাহার পরিবারের লোকজনদের খুন জখম করা সহ জান মালের বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত করিবে মর্মে হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে লোকজনদের সহায়তায় তিনি চন্দ্রা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বর্বর। ভুক্তভোগীর শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকায় এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন