সোনাতলা (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় গত এক বছরে পল্লী বিদ্যুৎ বগুড়া সমিতি-২ এর আওতাধীন ৭৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন সেচমালিক, মোবাইল ফোন টাওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেচকার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য।
চুরির ভয়ে উপজেলার উত্তর আটকরিয়া গ্রামের একটি ট্রান্সফরমার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটিও চুরি হয়েছে বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোনাতলা উপজেলার মোবাইল টাওয়ার, শিল্প, সেচ ও বাণিজ্যিক সংযোগে ব্যবহৃত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পাকুল্লা, দিগদাইড়, বালুয়া ও জোড়গাছা ইউনিয়নে চুরির ঘটনা তুলনামূলক বেশি। চুরি হওয়া বেশির ভাগ ট্রান্সফরমারই কৃষকদের জমিতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই ক্ষতির বোঝা পড়ে তাদের ঘাড়েই।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়মানুযায়ী, প্রথমবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের জায়গায় নতুন ট্রান্সফরমার ফের স্থাপন করতে গ্রাহককে অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এরপর চুরি হলে ট্রান্সফরমারের পুরো মূল্যই দিতে হয় গ্রাহককে। চুরির কারণে বারবার ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে কৃষকরা লোকসানে পড়ছেন। ট্রান্সফরমারগুলো উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের সাথে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় কিভাবে চোরচক্র সেগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা বলেন, চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, চুরির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন