শফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় প্রধান: ঢাকা মহানগরীর দীর্ঘদিনের যানজট, বিশৃঙ্খলা ও গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থানে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ সড়ক পরিবহন অডিটোরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা মহানগরীতে বাস পরিচালনাকারী বাস মালিকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত এই সভায় ঢাকার শতাধিক বাস কোম্পানির মালিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার আয়োজনে ছিলেন ডিটিসিএ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেশের পরিবহন শ্রমিকদের আস্থার ঠিকানা, রাজপথের লড়াকু সৈনিক -কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক প্রখ্যাত শ্রমিক জননেতা জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির খান।
তাঁর বক্তব্যের সময় পুরো অডিটোরিয়ামে করতালি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জননেতা হুমায়ুন কবির খান বলেন,ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এই রেশনালাইজেশনের নামে যদি কোনো পরিবহন শ্রমিককে বেকার করা হয়, তার পেটে লাথি মারা হয়, তা আমরা কঠোর হাতে প্রতিহত করবো।
তিনি বলেন,মালিক বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে, শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই মালিক-শ্রমিক-সরকার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়া কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। ঢাকার রাস্তায় চাঁদাবাজি, পুলিশি হয়রানি ও পরিবহন সেক্টরে ঘাপটি মেরে থাকা মাফিয়াদের উৎখাত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন,বিএনপি সবসময় মেহনতি, খেটে খাওয়া শ্রমিকদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে শ্রমিকবান্ধব বাংলাদেশ।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা যায়, বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ঢাকার সকল বাস কোম্পানিকে ৪২টি রুটের পরিবর্তে ৯টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হবে। একই রুটে অতিরিক্ত বাস চলাচল বন্ধ, কাউন্টার ভিত্তিক টিকিট, নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামানো, ই-টিকেটিং ব্যবস্থা, এক কোম্পানির এক রঙের বাস এবং চালক-হেলপারদের নির্ধারিত পোশাক ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
সভায় বাস মালিক নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। ডিটিসিএ কর্তৃপক্ষ সকলের মতামত গুরুত্বের সাথে শুনে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
শেষে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজটমুক্ত আধুনিক ঢাকা গড়তে সকলে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন