নিজেদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে ইরান। তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির শীর্ষ নেতারা এ বার্তা দিয়েছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আসিম মুনির। এ সময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর আগে পাকিস্তানের উদ্যোগে জুনে একটি অস্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
বৈঠকের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও আলোচনা করেন। ইরানের প্রকাশিত বৈঠকসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তেহরানের উত্থাপিত সাতটি শর্ত পূরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন গালিবাফ।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাত বন্ধ করা।
এদিকে, ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে ইরান আগ্রহী নয়।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে অবস্থান অপরিবর্তিত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে তেহরান। মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। এ বিষয়ে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের অবসান এবং ওয়াশিংটনের শর্ত পূরণে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ অনিশ্চিতই থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন