জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের সংকট ঘিরে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা কিংবা প্রেসিডেন্টের বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হতে পারে। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ কিংবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টিও তিনি উড়িয়ে দেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে কারফিউ জারিকেই কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের সমাবেশ নিষিদ্ধ করার বিশেষ ক্ষমতা দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার মার্সেই শহরে আট ঘণ্টার জন্য সব ধরনের জমায়েত বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতাল পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
৬০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেই
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও জঁদার্ম সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করলেও কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সহিংসতার দায় নিয়ে তিনি পদত্যাগের আবেদন করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তাঁর সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী প্যারিস, লিওঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে লুটপাট, দোকানপাটে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরে ঊনবিংশ শতকের একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক ভবনে আগুন দেওয়ার পর ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে।
প্যারিসে অন্তত পাঁচটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি একটি বড় বিপণিবিতানের প্রবেশপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, শিল্পকলার শিক্ষার্থীরা লুভর জাদুঘরের প্রধান প্রবেশপথ অবরোধ করলে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
গ্রেপ্তার দুই হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে
শনিবারের সহিংসতার পর ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জঁদার্ম সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলি লর বেকুয়োর তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে আরও প্রায় ১৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন কর্মসূচিতে আবারও উত্তেজনার আশঙ্কা
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সতর্ক করেছে, আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো চলমান বিশৃঙ্খলা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে ‘অ্যাক্ট টু’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আগামী শনিবার আবারও রাজপথে নামার কথা জানিয়েছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরা। নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন