ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো আইনত দণ্ডনীয়। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল ও যানজট কমাতে ফুটপাত হকারমুক্ত করার যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া শুধু উচ্ছেদ অভিযান কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ হকারই জলবায়ু উদ্বাস্তু বা হতদরিদ্র। তাদের জন্য কোনো ভেন্ডিং জোন বা নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় উচ্ছেদের কয়েকদিন পরই তারা আবার ফুটপাতে ফিরে আসে। ফলে অভিযানটি একটি চক্রাকার ব্যর্থতায় পরিণত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী, অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের একাংশ কর্মকর্তা মিলে হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলে। অভিযানে শুধু হকাররা শাস্তি পায়, মূল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রশাসন সরে গেলেই তাদের মদদে আবার দোকান বসে।
আবার স্বল্পআয়ের ক্রেতাদের জন্য ফুটপাতের কম দামের পণ্য ভরসা। ক্রেতা যেখানে বেশি, হকার সেখানেই যাবে। তাই জনশূন্য এলাকায় তাদের সরিয়ে দিলে জীবিকা চলে না।
*সমাধানের পথ কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?*
১. প্রকৃত হকারদের তালিকা করে ডিজিটাল আইডি কার্ড দেওয়া।
২. নির্দিষ্ট সড়কে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন বা বিকেলের মতো নির্দিষ্ট সময়ে বসার অনুমতি দেওয়া।
৩. হকার নয়, ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজি করা মূল সিন্ডিকেটকে ভেঙে দেওয়া।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পুরনো চাঁদাবাজরা সরে গেলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেখানে নতুন প্রভাবশালীরা এসে একইভাবে দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই দল-মত নির্বিশেষে দখলদারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োজন।
সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না, তবে নিবন্ধিত হকারদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে।
হকারের জীবিকার অধিকার ও পথচারীর হাঁটার অধিকার – দুইয়ের ভারসাম্য করে মানবিক নীতিমালা না হলে উচ্ছেদের নামে শুধু হাতবদলই হবে, স্থায়ী সমাধান আসবে না।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন