আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থা, বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত। তাঁর অভিযোগ, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংকটের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে।
গতকাল দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা নানা সংকটের মুখে পড়লেও তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া, সমস্যার সমাধান করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, দূতাবাস যথাযথভাবে তৎপর থাকলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দেশের ভেতরেও জনগণের জীবন, সম্পদ, মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের সংকট সমাধান এবং উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা
বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকারকে সম্মান না করে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো এলাকার মানুষকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত করার মানসিকতা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ধর্মের নামে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতা, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষা করা।
মানবতার রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ
আল্লামা ইমাম হায়াতের ভাষ্য, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মানবতার রাজনীতির মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
মানবসেবা ও ধর্মীয় দায়িত্ব
বক্তব্যে ঈমান ও মানবতার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দেওয়া এবং ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও বলেন, বিপন্ন, অসুস্থ, ক্ষুধার্ত ও নির্যাতিত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা মানবতার প্রতি দায়িত্ব পালনের অন্যতম উপায়। মসজিদসহ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
তাঁর মতে, ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনালয়ের কার্যক্রমকে মানবসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা উচিত নয়। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে আল্লামা ইমাম হায়াত মানবতার সুরক্ষা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
বক্তার পরিচিতি: আল্লামা ইমাম হায়াত বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন