কক্সবাজারের টেকনাফে লবণবোঝাই ট্রাক থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার পলাতক আসামি মো. হোসেনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যার বিল এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। আটক মো. হোসেন সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগিল্যার বিল এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে ডেগিল্যার বিল রাস্তার মাথায় ডাক্তার এনামের একটি ফাঁকা জায়গায় রাখা লবণবোঝাই ট্রাকে অভিযান চালান স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)-এর সদস্যরা। এ সময় ট্রাকের লবণের বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছিল।
পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবার চালানটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে মো. হোসেনসহ আরও তিনজনকে পলাতক আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকে মো. হোসেন পলাতক ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক অভিযান পরিচালনার পর শনিবার ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবার চালানটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং মাদকের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মো. হোসেন মিয়ানমারকেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং তিনি স্থানীয় একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত জানান, এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলার পলাতক আসামি মো. হোসেনকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফে মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন