অক্টোবরেই প্রায় ৯৪ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য উদ্ধার, আটক ৩,
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে পরিচালিত বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে প্রায় ৯৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দসহ তিনজনকে আটক করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ব্যাটালিয়নটির অভিযানে সর্বমোট ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের প্রায় ৯৯ কিলোমিটার এলাকায় ২১টি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়ীত্ব পালন করছে। সীমান্তের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ব্যাটালিয়নটি।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরিচালিত অভিযানে ৫৩৬ বোতল মদ, ১০৭ বোতল ফেনসিডিল, ৭ হাজার ২৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৭১০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৬৪১ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৩৭৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া চোরাচালানসংশ্লিষ্ট একটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
এদিকে, ১০ মাসে ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দের পরিসংখ্যান সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানের ব্যাপকতা তুলে ধরে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মাদকের অবৈধ প্রবেশ ও বিস্তার রোধে এ ধরনের নজরদারী ও অভিযান অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন। অপরাধী চক্রের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪২ বিজিবির অভিযান ও নজরদারী অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং চোরাচালানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্থানীয় জনগণের দায়ীত্বশীল সহযোগীতাও গুরুত্বপূর্ণ।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন