নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬২ হাজার পিস ইয়াবাসহ সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মিনি ট্রাকের হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের মিনি ট্রাক ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে ট্রাকের চালক মো. শাহেদ (৩৫) পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এ সময় নোয়াখালী থেকে ফেনীগামী একটি নীল রঙের মিনি ট্রাককে থামার সংকেত দেওয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ হেলপার সৈয়দ নুরকে আটক করতে সক্ষম হলেও চালক অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যান।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে মিনি ট্রাকটি তল্লাশি করে গাড়ির ডান পাশের বডির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩১টি সাদা ও কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেট থেকে ৬২ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, যার ওজন প্রায় ছয় কেজি। জব্দ করা মিনি ট্রাকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৭৫৮৪। এ ছাড়া একটি ব্যবহৃত আইটেল স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর জানান, তিনি ও পলাতক চালক মো. শাহেদ ট্রাকমালিক মো. রবিউল আলম (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেন। পরে নোয়াখালীর চরজব্বর হয়ে নরসিংদীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ৩টায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কোনো মাদক ব্যবসায়ী যেন এলাকায় রাজত্ব কায়েম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এ ঘটনায় সেনবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালকসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন