রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৪ দশমিক ৭৫ একর সরকারি খাসজমির নামে খোলা বিতর্কিত একটি হোল্ডিং স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। জমিটি নলীগ্রাম মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ডহর ও পুকুর শ্রেণির বলে জানিয়েছে স্থানীয় ভূমি অফিস। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, হোল্ডিং স্থগিতের পর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে আরিফ হোসেনের বাবা আবুল কাশেমের নামে ওই ৪ দশমিক ৭৫ একর সরকারি জমির একটি হোল্ডিং খোলা হয়। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোল্ডিংটি স্থগিত করেন। দীর্ঘদিন পর ২০২২ সালে আরিফ হোসেন অনলাইনে একই জমির নামে পুনরায় হোল্ডিং খুলে খাজনা পরিশোধ করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে সম্প্রতি হোল্ডিংটি আবারও স্থগিত করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি খাসজমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই ওই হোল্ডিং খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ফার্মেসি পরিচালনা এবং চিকিৎসক পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
হোল্ডিং স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষার স্বার্থে বিতর্কিত হোল্ডিংটি স্থগিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে অসুস্থ বলে জানান। তবে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করেই বিষয়টি এড়িয়ে যান।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন