দিনাজপুরে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে নেতাকর্মীদের নানা পরামর্শ ও মতামত। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দিনাজপুর শহরের জেল রোডস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ মতামত, পরামর্শ ও বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং মহিলা দলের নেত্রীরাও দিবসটির কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। সভায় ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ খালুকুজ্জামান বাবু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক বাবু চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটি। সভায় জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং জেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, তাঁতীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি ও তাৎপর্য: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ওই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে নানা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দী করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান শুরু হয়। একপর্যায়ে বন্দীদশা থেকে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের বিষয়টিও ইতিহাসে আলোচিত হয়েছে। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানটি সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত।
এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের প্রভাব ও অবস্থান আরও দৃঢ় হয়। তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিতর্কিত অধ্যায়ও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটির মূল্যায়ন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলে ভিন্ন ভিন্নভাবে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। দলটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যায়, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অন্যদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একটি অংশ দিনটিকে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে মূল্যায়ন করে। আওয়ামী লীগসহ ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষগুলো ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন করে থাকে।দিবসটি পালনে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি:
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারী ঘোষণায় দিবসটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বিশেষ প্রার্থনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র্যালি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। দিনাজপুর জেলা বিএনপির এই প্রস্তুতি সভাকে আসন্ন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন