ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা বিএনপির নেতা শেখ মেহেদি হাসান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এলাকায় নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থানীয় মানুষের সেবা করতে চান তিনি।
শেখ মেহেদি হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। মানুষের বিপদ-আপদে সহযোগিতা করাকে নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন তিনি।
শেখ মেহেদি হাসানের রাজনৈতিক পথচলাও দীর্ঘদিনের। জানা যায়, ২০০৩ সালে তিনি কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য, কয়রা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এবং কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পর্যায়েও বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও প্রচারসম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান।
তাঁর ভাষ্য, মানুষের পাশে থাকার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে চান। বিশেষ করে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করার পাশাপাশি মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নকে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।
শেখ মেহেদি হাসানের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। তাঁর পরিবারের আপন বড় ভাই অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুর রশিদ কয়রা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শেখ মেহেদি হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবার এলাকার মানুষের উপকার ও সেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শেখ মেহেদি হাসান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে ছিলাম। আমার পরিবারও রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এলাকার মানুষের উপকার করে আসছে। মানুষের সেবা করাই আমাদের লক্ষ্য। আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নকে একটি সুন্দর ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিকভাবে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নবাসীর যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করতে চাই। মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও উপকূলীয় পরিবেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে সুপেয় পানির সংকট, দুর্যোগের ঝুঁকি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এলাকার মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা।
স্থানীয় ভ্যান চালক আবুল বাসার বলেন , মেহেদি হাসান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি নির্বাচন করলে আমার পরিবার তাকে ভোট দিবো।
তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা এবং দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির মনোনয়ন পেলে শেখ মেহেদি হাসান মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা।
ফোনঃ
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন