কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ও উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) হোয়াইক্যং এলাকার একটি এবং হ্নীলা এলাকার দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পুরোহিতদের উপহার প্রদান করেন।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছয়টি পূজামণ্ডপে উখিয়া ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বিজিবির।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যদের নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানী ঢাকায় বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবি মনে করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন