সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও রংপুরের তাজহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা করে ফি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী মাসুদের নির্দেশেই এই টাকা তোলা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় ও অভিভাবক সূত্রের বরাতে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিকে কোনো প্রকার ভর্তি বা মাসিক ফি নেওয়ার বিধান না থাকলেও নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থী টাকা দিতে বিলম্ব করছে বা অপরাগতা প্রকাশ করছে, তাদের নানাভাবে মানসিক চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে বলে অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, “প্রতি মাসেই স্যাররা আমাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেন। টাকা না দিলে ক্লাসে বকাঝকা শুনতে হয়।”
অভিভাবকদের দাবি, অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। যেখানে সরকার বিনামূল্যে বই ও শিক্ষা সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের এমন সিদ্ধান্ত তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই টাকার কোনো রসিদও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মেহেদী মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন ও নীতিগত কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায়ের সুযোগ নেই। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা অভিলম্বিত এই বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন