গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপরেই পৌরসভার সমস্ত ময়লা ফেলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ময়লার ডাস্টবিন। মহাসড়ক দখল করে দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ জমে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে হাজারো পথচারী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সফিপুর ফ্লাইওভারের ঠিক নিচে, তানহা হসপিটালের একেবারে বিপরীত পাশে মহাসড়কের ওপর পৌরসভার ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।পচা শাকসবজি,আনারসের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, হাসপাতালের বর্জ্যসহ সব ধরনের ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখানে। দুর্গন্ধে ১-২ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা দায়।
অথচ এই ময়লার স্তূপের পাশেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিক্রি হচ্ছে খোলা খাবার -ঝালমুড়ি, চটপটি, দই-মিষ্টি। ময়লার পাশেই লাল পলিথিন বিছিয়ে মানুষ আরাম করে বসে খাবার খাচ্ছে। একই সাথে ঢাকা-টাঙ্গাইলগামী দূরপাল্লার বাস, অটোরিকশা, ট্রাক এই ময়লার স্তূপ ঘেঁষেই চলাচল করছে, সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের।
একজন পথচারী আবুল কাশেম (৫২)ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ময়লার ডাস্টবিন ভাবলে ভুল করবেন,এটা হচ্ছে কালিয়াকৈরের সফিপুর। গাজীপুরে এত বড় বড় খালি জায়গা থাকতে বাজারের মধ্যে হাইওয়ে রাস্তার উপর কেন ময়লা ফেলবে?এটা কি সরকারের ব্যর্থতা,নাকি পৌরসভার?
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন,ফ্লাইওভারের নিচে পৌরসভা ময়লা ফেলার জায়গা বানিয়েছে। দুর্গন্ধে দোকানে কাস্টমার আসে না। প্রশাসনকে বহুবার বলেও কোনো লাভ হয়নি।
আরেকজন খাবার দোকানদার সোহেল রানা বলেন,আমরা কি করবো? পেটের দায়ে এখানে দোকান নিয়ে বসেছি। ময়লার গন্ধেই খাবার বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদেরও রোগ হচ্ছে।
একজন স্কুল শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন বলেন,বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় নাক চেপে যেতে হয়। হাসপাতালের সামনে এমন নোংরা থাকলে রোগী সুস্থ হবে কিভাবে?
স্থানীয়দের প্রশ্ন,কালিয়াকৈর পৌরসভার এত টাকার বাজেট কোথায় গেল? এখন পর্যন্ত একটা নির্দিষ্ট ময়লার ডাস্টবিন তৈরি করতে পারল না কেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিবলেন,বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং ফ্লাইওভারের নিচে এভাবে ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। আমি ইতিমধ্যেই পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করা হয়। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন,
সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে মহাসড়কের ওপর ময়লা ফেলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। মহাসড়ক কোনো ময়লা ফেলার স্থান হতে পারে না। আমি আজই পৌর কর্তৃপক্ষকে এই ময়লা দ্রুত অপসারণের জন্য নোটিশ দিচ্ছি। আগামী কিছু দিনের মধ্যে এখান থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে পরিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে মহাসড়কে ময়লা না ফেলা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, মহাসড়ক থেকে অবিলম্বে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। শতকোটি টাকার ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার ভাগাড় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন