বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রধান শিক্ষকের জন্মদিন পালনের পর নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিদ্যালয় ছুটির বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে অষ্টগ্রাম উপজেলার মসজিদজাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত দুই দিন পূর্বে মঙ্গলবার ১৫ ই সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় বন্ধ রেখে প্রধান শিক্ষকের জন্মদিন পালনের বিষয়টি গোপন থাকলেও আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিষয়টি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। বিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রেখে গোপনে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।
১৫ ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল হক খন্দকার কে মুঠো ফোনে জিজ্ঞেসবাদ করলে তিনি বিদ্যালয় ছুটির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল কি না জানতে চাইলে, প্রধান শিক্ষক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত না করার বিষয়টিও স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ঘটনার বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন,আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের পাঠকার্যক্রম বন্ধ রেখে জন্মদিন পালন করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন “ঘটনা সত্য। আমি শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে মিটিং করে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করব।”
নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত না করে পাঠদান বন্ধ রেখে জন্মদিন পালন করার বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ব্যক্তিগত আয়োজনের কারণে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং সরকারি বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।
বার্তা প্রেরক: বিজয় কর রতন, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ।
মন্তব্য করুন